Skip to main content

Brick Lane News

তাপপ্রবাহে স্বস্তি খুঁজতে গিয়ে ফ্রান্সে পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

তাপপ্রবাহে স্বস্তি খুঁজতে গিয়ে ফ্রান্সে পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে পানিতে নামতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশটিতে জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ফ্রান্সে এবারের গরম শুধু দিনের আলোতেই সীমাবদ্ধ নেই, রাতেও অস্বাভাবিক তাপমাত্রা মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস—যা সাম্প্রতিক দশকে তুলনামূলকভাবে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তুলনায় ২০১৯ সালের পূর্ববর্তী রেকর্ডের চেয়ে এটি কিছুটা বেশি।

এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে ৫৪টি অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এমন আবহাওয়ায় মানুষ স্বাভাবিকভাবেই নদী, খাল বা অনিরাপদ জলাশয়ে গিয়ে স্বস্তি খুঁজছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় পরিণত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পানিতে নেমে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় একদিনেই অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশু ও তরুণদের মতো সংবেদনশীল বয়সী মানুষও। কিছু ঘটনা পারিবারিক অবহেলা ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশে ঘটেছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া ফ্রান্সে আরও কয়েকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী নদীতে ডুবে মারা গেছে। কার্পেনট্রাস শহরে পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যেখানে তীব্র গরমকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে লিঁও শহরের কাছে নদী থেকে উদ্ধার হওয়া এক তরুণ ক্রীড়াবিদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ইউরোপের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ইতালির রোম ও মিলানসহ একাধিক শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। শ্রমিকদের জন্য দিনের সবচেয়ে গরম সময় কাজ সীমিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। জার্মানি ও স্পেনেও পানিতে ডুবে মৃত্যু ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলে এক ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যেও চার দিনের তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা উষ্ণ বাতাস এবং নির্দিষ্ট আবহাওয়াগত চাপের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তারা সতর্ক করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের তীব্র তাপপ্রবাহ ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে, যদিও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে।