প্রতিবেদক, ব্রিকলেন নিউজ, ঢাকা:
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দুই মাস পর, ২৪ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যসহ ৪৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। সে সময় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জুলাই আন্দোলনে তথাকথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য শেখ হাসিনাসহ নির্দেশদাতাদের তদন্ত ও বিচারের জোর দাবি জানিয়েছিল। তবে ঘটনার দুই বছর পর এসে সংস্থাটির অবস্থানে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন বা ‘ইউ-টার্ন’ লক্ষ করা যাচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বর্তমান অবস্থান থেকে আশার সঞ্চার ঘটেছে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাঝেও।
দীর্ঘ দুই বছর পর প্রকাশিত নতুন একটি প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ আওয়ামী লীগ সরকার সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক ও অন্যদের বিচার শুরুর আগে দীর্ঘদিন আটকে রাখার অবসান চেয়েছে। অবশ্য সংস্থাটির এই অবস্থান বদল আগস্ট থেকে নয়, বরং গত মার্চ মাস থেকেই নতুন সরকারের মানবাধিকার নীতি নিয়ে তারা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা নির্বিচারে আটক বন্ধ, অতীত মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কার এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীন করার আহ্বান জানায়। এরপর মে ও জুলাই মাসে গুম, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও সংস্থাটি তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে।
তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হত্যা, হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং মব জাস্টিসের মতো ঘটনাগুলোর সময় এইচআরডব্লিউকে এতটা সোচ্চার দেখা যায়নি কেন? এর জবাবে এইচআরডব্লিউ বলছে, তারা আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের নির্দোষ দাবি করছে না; বরং অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ, ব্যক্তিগতভাবে আটকের প্রয়োজনীয়তা এবং যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে।
এদিকে, এর পেছনে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণও দেখছেন অনেকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, ভারতের মধ্যস্থতায় পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে আওয়ামী লীগের কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। পশ্চিমা অর্থায়ন ও প্রভাব বলয়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকার কারণেই পরিবর্তিত কূটনৈতিক সমীকরণের ফলে এইচআরডব্লিউ আওয়ামী লীগ ইস্যুতে তাদের সক্রিয়তা বাড়িয়েছে।
একদিকে পুরোনো অপরাধের বিচারের দাবি, অন্যদিকে সেই বিচার করতে গিয়ে নতুন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ—এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সুগম করতেই কি এইচআরডব্লিউ এই অবস্থান নিয়েছে এই প্রশ্নের উত্তর পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে