নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির রাসুওয়া জেলায় চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যার ঘটনায় শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ প্রায় ৪০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ সংখ্যা শুরু থেকেই বাড়ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়। আরও ১১১ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে নেপাল ছাড়াও যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে চীন সীমান্তবর্তী রাসুওয়া জেলার কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে গ্রাম, সড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৭টার পর বার্তা সংস্থা রয়টার্স ৫৫ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছে। তবে নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী হিমালয় এলাকায় সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর তুষারধস নামে। এর পরপরই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে।
কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজন ভক্ত কায়স্থের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তুষারধসে লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়ার পর ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
নেপাল পুলিশ ও এএফপির প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, প্রবল স্রোতে বাড়িঘর ভেসে যাচ্ছে। কোথাও কাদামাটির মধ্যে ভবনের শুধু ওপরের অংশ দেখা যাচ্ছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে নেপালের সেনাবাহিনী। হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত ২৬ পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সামরিক সদস্যেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধারকাজে চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে নেপাল।
এদিকে নেপালের পাশাপাশি প্রতিবেশী তিব্বতেও ব্যাপক হতাহত ও নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের বন্যার প্রভাবে তিব্বতের গিরং বন্দরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। কৈলাস-মানসসরোবর যাত্রায় যাওয়া প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর জানিয়েছে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট।
চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিব্বতে এখন পর্যন্ত নিহত বা আহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।
বন্যায় নেপালের বিদ্যুৎ খাতও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি মহাসড়কও।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।