Skip to main content

Brick Lane News

প্রিয় লিও, বিদায় বলো না

প্রিয় লিও, বিদায় বলো না

নুজহাত নূর সাদিয়া-

গ্রীষ্মকালিন স্কুল হলিডে শুরু হয়েছে, একদিকে অবকাশ যাপনের তোড়জোড় অন্যদিকে বিদায়ী বছরকে পেছনে ফেলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি । মনের কোণে অজান্তে বেজে উঠছে বাংলার সেই চিরন্তন সুরের আবেশ – মুছে যা জরা , ঘুচে যাক গ্লানি। শ্রেণীকক্ষের দেয়ালজুড়ে বৈচিত্র্যময় শিক্ষালিপি, অনুচ্চস্বরে বারংবার প্রতিধ্বনিত তাদের সম্মিলিত হাহাকার পুরনো হয়ে পড়েছি আমরা প্লীজ,জলদি বদলে ফেল আমাদের ! সরকারি হিসেব অনুযায়ী, পুরো ইউরোপ জুড়ে এখন ও চলমান স্বরণকালের এ ভয়াবহ তাপদাহে এখন পর্যন্ত এ নশ্বর বিশ্বকে বিদায় জানানো মানবের সংখ্যা ২৭০০ জন, ভাবা যায় ? তাই , তীর্থের কাকের মত এই প্রত্যাশিত ছুটিটির আশায় বসে ছিলাম ধূ ধূ মরুভ‚মিতে পথ হারানো তৃষœার্ত পথিকের মত এক বিন্দু জল পাওয়ার আশায় । একটু, পেছন ফিরি সাল ২০২২ মরুর শহর কাতারের লুসাইল স্টেডিয়াম, ফুটবল খেলার মাঠে পড়ন্ত বেলার এক বিস্ময় বালক ও ৩৬টি বছর ধরে তৃষœার্ত হয়ে ছুঁটে বেড়াচ্ছিল এক পাত্র সোনালি জলের আশায় । নিশ্চিতভাবেই, তা সুপেয় নয় , নয় পানীয়যোগ্য তবে ,সন্দেহতীতভাবেই সে গলিত সোনা ইতিহাসের পাতায় অমরত্বের দাবিদার। শীতের মিষ্টি রোদ, সোনাঝরা বিকেল সে সরল হাসির দুরন্ত বালকটি অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ১৮ই ডিসেম্বর বিশ্ব মঞ্চে তার অমরত্বের ইতিহাস টি চিরতরে লিখে ফেলল। শেখ মেসি, কিভাবে এতটা ভাল খেলেন আপনি ! বিশেষজ্ঞদের ভাষায় , তারার গায়ে বহু আগেই নিয়তি লিখে ফেলেছে সে অমর বার্তা , অপেক্ষা ছিল শুধু কাঙ্খিত সময় আর শতকোটি মুগ্ধ চোখের প্রার্থনার জবাবের।
আবার আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠা, প্রাথমিক শিক্ষার সমাপনী ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের চোখগুলো চিরসবুজ স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে অশ্রæ টলমল । স্মৃতির সেই চিরন্তন পথে আমি ও মহাআনন্দে শরীক হলাম, উৎসবে ভরপুর ক্লাস পার্টি উদর পূর্তি চলছে সমান তালে আর স্কুল টি-শার্টে বাণি চিরন্তনীর সাগ্রহ আহবানে নিজ স্বাক্ষরটি ও বর্ণিল করে রাখা । হঠাৎ, ক্লাসটিচার মিস পিকার্ডের সজোর কন্ঠস্বর, আরে উত্তর আমেরিকার ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ যে আমাদের স্কুলে নেমে এসেছে-জার্সি বদল ! হবেই তো এরাই যে আগামীর তারকা । সবুজ ঘাস যেমন মেসি নেইমার এমবাপ্পেদের বরণ করে নিয়েছে সাদরে, ঠিক তেমনি কোন একদিন হয়তোবা এন.এইচ.এস ( ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ) ব্রিটেনের দোরগোড়ায় উঁকি দিবে এক মায়াকাড়া ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, অক্সফোর্ডের প্রাচীন গ্রন্থাগারে গবেষণায় মগ্ন থাকবে এক নিরব সাধক, রয়েল লন্ডন হাসপাতালের নির্জন করিডর প্রকম্পিত হবে মানবসেবায় ব্রত এক নি:স্বার্থ চিকিৎসকের , অ্যামাযনের সুপার কম্পিউটারের কি বোর্ডে সচল হবে এক উদ্ভাবকের উদ্ভাবনী নেশা স্বপ্নের যে নেই কোন সীমারেখা । চারপাশে গগনবিদারী গর্জন, থ্রি লায়নস চির্য়াস-সাদা লালের সেই ঐতিহ্যবাহী আভিজাত্য। পক্ষপাতদুষ্টতায় দুষ্ট আমি , না না কি যে বলি ঐ জোঁড়া পায়ের কারুকাজে মুগ্ধ না হয়ে উপায় আছে ? মুগ্ধতার আবেশ হৃদয় ছাঁড়িয়ে গলার কাছটায় উঠে আসতে চায়, তবে ব্রিটিশ ভব্যতা বলে একটা ব্যাপার আছে না । তাই অনুচ্চ কন্ঠের ফিসফিসানি, সেই আকাশী নীলের মাঝখানের সূর্যটা যেন বরাবরের মতই আকাশ ছুঁতে পারে ; ভামোস আর্জেন্টিনা । হাতের চলমান আঙ্গুলগুলো অজান্তে ক্রমান্বয়ে সাজিয়ে ফেলে , পরবর্তী বর্ষের নব আগন্তুকদের সুন্দর নামগুলো । যার শীর্ষে জ্বলজ্বলিয়ে শোভা পাচ্ছে রোজারিও‘র ধূলো মাখা সেই ছোট্ট সিংহটির নাম ।
দুর্দান্ত ‘বস বেবি‘ মুভিটি উপভোগ করছিলাম আর মনে মনে ভাবছিলাম বর্তমান গতিনির্ভর ফুটবলের রাজপুত্রটি সময়ের স্রোতে  কিভাবে পুরো পৃথিবীর একচ্ছত্র সম্রাট বনে গেল । গতি, কৌশল, পেশাদারিত্ব বয়স সবকিছুকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তাঁর ক্ষুরধার ফুটবলীয় মস্তিষ্ক, অবিশ্বাস্য ধারাবাহিতা , খেলার প্রতি অর্ঘ্যতুল্য ভালবাসা আর সৃষ্টিকর্তার অপার অনুগ্রহ নিয়ত জন্ম দিয়ে চলেছে এক অলৌকিকতার ।
সেই ছেলেটি-আর্জেন্টাইন ফুটবলে কল্পনার মানসপুত্র ‘এল পিবে‘ (ইংরেজিতে দ্য কিড) । ‘এল গ্রাফিকোর ‘ সম্পাদক রিকার্দো লোরেঞ্জো বোরোকোতো ১৯২৮ সালে তাঁর লেখায় সর্বপ্রথম ‘ এল পিবের‘ ধারণা দেন: অল্প বয়সী একটি ছেলে, চিরুনির অবাধ্য চুল তবে , চোখদু‘টো বুদ্ধিদ্বীপ্ত ও কৌশলে ভরপুর ..ছবির মত সুন্দর হাসি ..ড্রিবলিংয়ের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ..এমন ভাস্কর্য কোন এক দিন নির্মীত হলে অনেকেই হয়তো টুপি খুলে সম্মান দেখাবে, যা গির্জায় করে। বাস্তব কখনো রুপকথার চেয়ে ও সুন্দর , বিশ্বের আনাচে কানাচে আজ কোটি হৃদয়ের গগনবিদারী গর্জন ; মেসি, দি মেসিয়াহ আর প্রবল বিশ্বাসে বুকের কাছে নেমে আসা নতজানু মাথা আর হাতযুগল।
বিশ শতকের প্রথম দশকে ইংরেজ আবিষ্কৃত পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় এ খেলাটি ইউরোপের শৃঙ্খলাবদ্ধ খেলার বৃত্ত ভেঙ্গে নিজস্ব একটি ধারা তৈরি করতে চেয়েছিল দারিদ্র্যপীড়িত , মাদকের নেশায় আকন্ঠ নিমজ্জিত আর আবেগের আতিশয্যে রীতি -নীতির তোয়াক্কা না করে আকন্ঠ ফুটবল প্রেমে বুদ হয়ে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে । ব্রাজিলের সাম্বা নাচ, আর্জেন্টাইনদের মূহুমূহু জয়োল্লাস, মেক্সিকোর উপজাতীয় উপস্থিতি কিংবা কলাম্বিয়ান পপ গায়িকা শাকিরার মাদকতাময় কন্ঠে ওয়াকা ওয়াকা কিংবা দাই দাই লাতিন আমেরিকার সেই নজরকাড়া শৈল্পিক ফুটবলকে চিরতরে আমজনতার মানসপটে কি দারুণভাবেই না গেঁথে দিয়েছে । কালের খেয়ায় , ১৯৩৪ সালে বিশ্বকাপে ১ম বারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে, দুধর্ষ চিলি, কিউবা অথবা প্যারাগুয়ের নামটি আজ অনেকে ভুলতে বসেছে । কালো মানিক পেলের সবুজ-হলুদের দেশটি (খোদ জাতীয় পতাকায় চর্তুভুজাকার বলটি চিরভাস্বর ) ও আজ অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি তবে, ফুটবলের প্রতি সাধারণে ভালবাসা বেড়েছে বই কমে নি এতটুকু ।
লাতিন আমেরিকার অন্ধকার গলির শ্যাওলা ঢাকা দেয়ালগুলো যে আজ আর ছন্দময় ফুটবলের সে শৈল্পিক সুরটি নির্দ্বিধায় তুলতে পারছে না । মনের খোরাক যোগানো , সে হাড় লিকলিকে কিশোরের পা দু‘টি যে আজ কলকারখানায় মেশিন চালনায় নিত্য ব্যস্ত। স্ট্রীট ফুটবলের মায়ায় ভরা সে গোলকধাঁধায় হারিয়ে যেতে যে সে বড্ড অপারগ।

ফুটবল খেলার আদ্যেপ্রান্ত বুঝি না, তবে রাস্তার পাশে এই গোলাকার বস্তুটি পড়ে থাকতে দেখলেই ছোটবেলা হতে কেমন যেন পা নিশপিশ করত-দেখি এক ধাক্কায় শিউলি ফুলে ঢেকে থাকা বাড়ির গেটটি পার করা যায় না । এ যেন নিয়ম ভাঙ্গার এক সুপ্ত দু:সাহস, শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন ভাঙ্গার এক দুর্বার অভিলাষ ।
শীতের পিঠা-পুলির রস আস্বাদন, কিংবা গগনে গরযে বর্ষার সেই কাদা মাখা মাখি মাঠ, আকুল আগ্রহে বারবার খুঁজে ফিরেছি সেই কাঁদা মাখা ভুতুড়ে মুখগুলো যারা তাদের শৈশব কৈশোরের অফুরান আনন্দের অনুসন্ধান করেছে ফুটবল নামক এক বায়বীয় খেলার পেছনে ক্লান্তিহীন ছুঁটে চলায়। হোক তা বাড়ির আঙ্গিনা, সবুজ খেলার মাঠ কিংবা কোন ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের মাঠে পেশাদারিত্বের অভিনব প্রদর্শন , বাঙালি তাতে মজেছে বহুকাল ধরেই।
মাদারিপুর জেলার শিবচর গ্রাম , আনন্দপুর গ্রাম -এখন আর্জেন্টিনা ভিলেজ নামে খ্যাত , আতœহারা টি.এস.সি. , বুয়েনস এইরেসের রাস্তায় উড়তে থাকা লাল সবুজ সীমানা পেরিয়ে ভালবাসার কি সতস্ফ‚র্ত বহি:প্রকাশ । তবে, নির্জলা আবেগের পাশাপাশি আমাদের কি উচিত ছিল না কিংবদন্তী সালাহউদ্দিন, কায়সার হামিদ কিংবা মোনেম মুন্নাদের মত অগ্রজদের পদাংক অনুসরণ করা । নাহ, বলতে দ্বিধা নেই আমরা অনেকক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছি । আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রশাসনিক ভুল সিদ্ধান্ত জহুরীর অচেনা দৃষ্টি আজ খেলোয়াড় নয় বরং সবজান্তা সমালোচকের ভ‚মিকায় সরব প্রায় সকলে। আশার কথা, অজপাড়াগাঁয়ের দু‘বিনুনীর সেই হার না মানা কিশোরীরা কি চমৎকার ভাবেই না আর্ন্তজাতিক মঞ্চে আজ বাংলার ফুটবলকে মেলে ধরেছে। মেয়ে মানুষ আবার কি ফুটবল খেলবে- এ ভ্রান্ত বিশ্বাস আজ নির্মল হাসির খোরাক যোগায় ।
সাল ১৯৯৮, রিকি মার্টিনের সেই বিখ্যাত ওলে ওলে বিশ্বকাপ সঙ্গীত বাড়ির ফুটবলপ্রেমী বড়দের সহায়তায় একটু একটু করে সবুজ ঘাসের পাঠ নেওয়া শুরু । আর ১ম বারের মত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কোর্য়াটার ফাইনালের নৈশ খেলায় বুদ হয়ে লাতিন আমেরিকার সৃজনশীল ফুটবলের প্রেমে পড়ে যাওয়া । সমর্থক ব্রাজিল, তবে ‘গোল অভ দ্য সেঞ্চুরি‘ কিংবা ‘হ্যান্ড অভ গডের ¯্রষ্টা‘ সেই অমিত প্রতিভাবান ডিয়েগো ম্যারাডোনার অনতিক্রম্য প্রভাবের সূতো কাটব সে দু:সাহস কই ? টক -ঝাল -মিষ্টি কথার লড়াই, আর আমরা উঠতি সখীগণ কখনো রর্বাতো ব্যাজিওর স্বর্গীয় বিনুনীতে, কখনো কাকার ছন্দময় নাচে, দি ফেনোমেনন রোনালদোর সরল হাসিতে, সুদর্শন বাতিস্তুতার সোনালি চুলে , টোটাল ফুটবলে রুড গুলিতের আলতো স্পর্শে, গ্রীক দেবতা স্যার বেকহাম, মরক্কান সিংহ হাকিমি , পিরামিডের দেশের সালাহ অথবা জিদানের সেই বিশ্বকে হতবাক করা গুঁতোতে বারংবার বুদ হয়ে পড়ি । আর কিংবদন্তীদের নামের বাহার , সত্যি চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মত-আরনোস নাসিমান্তো দি পেলে, ডিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডেনা, পাওলো মালদিনি , ইয়োহান ক্রুইফ, জিনেদাইন জিদান, লুকা মদরিচ, হাল আমলের স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি, অলটাইম গ্রেট লিওনেল মেসি এবং বর্তমানের জ্বলজ্বলে হীরকটি দি মারসার ( স্পেনের বার্সেলোনা ক্লাব ) লামিন ইয়ামাল । বার্সার মোট ৯ জন খেলোয়াড় আজ ১৯শে জুলাই‘২৬ নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনালে মুখোমুখি। প্রকৃতির আজব খেয়ালে, গোসলরত ৬ মাসের ছোট্ট শিশুটি বাস্তবের মাঠে তার আর্শিবাদদাতার মুখোমুখি । ম্যাজিশিয়ান মেসি কি কিছুটা হলে ও পুলক অনুভব করছেন না তাঁর যাদুর ছোঁয়ায় শিশু ইয়ামাল তাঁর অবিস্মরণীয় ১০ নম্বর জার্সিটির নতুন ইতিহাস লিখতে অধীরভাবে মুখিয়ে আছে । ফুটবল, সত্যি তুমি নান্দনিক, আর ¯্রষ্টা তাঁর পরিকল্পনা বোঝা সাধারণে কল্পনার ও বাইরে । সহজ স্বীকারোক্তি, গোট মেসির আক্ষরিক অর্থ বুঝতে যেমন উঠে পড়ে লেগেছিল এক ঘুমহারা মা- আতœজার মিষ্টি হাসি,মেসি ইজ নট অলওয়েজ মেসি ( গোছানো:হা হা )
এ বিশাল ধরাধামে ক্রীড়াক্ষেত্রে সম্মানের সাথে সর্বাধিক উচ্চারিত নাম মোহাম্মদ আলী। প্রজাপতির মত ঘুরে বেড়াও, আর মৌমাছির মত হুল ফুঁটাও- তাঁর এ অমর উক্তিটি রেসলিং মঞ্চে আজ ও অক্ষয় । অনুকরণীয় এ বক্সার ভিয়েতনাম যুদ্ধে তাঁর প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে হারিয়েছিলেন পদক ,স্বীকৃতি আর কপালে জুটেছিল পশ্চিমা বিশ্ব সহ বিশ্ব মোড়লদের তীব্র কটাক্ষ । কিন্তু, দৃঢ় ব্যক্তিত্বের মানুষটি একচুল নড়েননি নিজ অবস্থান হতে, মূত্যুর পর ও বিজয়ী তাঁর মানবিক সত্তা। মেসি এখন মোহাম্মদ আলীর মতই খ্যাতির বিশ্বচ‚ড়ায় । চিরপ্রতিদন্বী সিআর সেভেনের অতি আরাধ্য সোনার বলটি এখন ফিলিস্তিনের দুর্গত শিশুদের মুখে হাসি ফোঁটাচ্ছে, প্রতিপক্ষ স্প্যানিশ রণতরীর দল বহু আগেই গাজার কিনারা ছুঁতে ছুটে গেছে, গুরু ডিয়েগোর বজ্রকন্ঠ বার বার সুর মিলিয়েছে ফিদেল ক্যাস্ট্রো আর চে গুয়েভারার বলিষ্ঠ কন্ঠে, ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘লিও মেসি ফাউন্ডেশন‘ বিশ্ব জুড়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে লাখ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মুখে বছরের পর বছর ফুটিয়ে চলেছে এক অকৃত্রিম হাসি । প্রিয় লিও, আপনার স্মিত হাসিটি রাজনীতি হতে বরাবরি দূরে -তবে অলটাইম গ্রেটরা যে সঠিক সময়েই জ্বলে উঠেন । অসহায় মুখগুলো আপনার অপেক্ষায়, হৃদয়ের ডাকটি কি শুনতে পাচ্ছেন ?
দূরদর্শী খেলোয়াড়টি তাঁর ভবিষ্যত ঠিক আঁচ করতে পেরেছিলেন। আর ৪টি বছর আগেই তাই ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ভেন্যু মার্কিন যুক্তরাষ্টের ইন্টার মিয়ামি ক্লাবকে বেছে নিয়েছিলেন তাঁর পরম আবাস হিসেবে । ফুটবল বিধাতা তাঁকে দু‘হাত ভরে দিয়েছে, চলতি ২০২৬ সালের বিশ্বমঞ্চে তাঁর ও অদম্য মানসিকতার দলটির বিদায় স্বপ্নের মতই হোক এ প্রত্যাশা প্রায় সকল খেলাপ্রেমীর। তবে, তাঁর অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার মতই গরম কফির মগ হাতে মাঠময় ড্রিবলিংয়ের সে আশ্চর্য দৃশ্যগুলো উপভোগ করতে চাই হোক তা টিভির পর্দায় কিংবা শিশির ভেজা সবুজ ঘাসে-হুম কালো চুলে রুপোলি আভা ঢেউ খেলে যাওয়া পর্যন্ত । কি লিও রাজি আছেন তো !
(সূত্র: আর্ন্তজাতিক গণ মাধ্যম )