রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে ডার্ট ব্যাঙের প্রাণঘাতী বিষ দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসের যৌথ গোয়েন্দা তদন্ত। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় রুশ প্রশাসনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।
গ্যাস খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম এবং তেল কোম্পানি রসনেফটের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০০৮ সালে আলোচনায় আসেন নাভালনি। ২০১০ সালে আইনজীবীদের নিয়ে ‘রসপিল’ নামে একটি দুর্নীতিবিরোধী প্রকল্প শুরু করেন তিনি। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ফাউন্ডেশন ফর ফাইটিং করাপশন, যা রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক মহলের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করত।
দুই বছর আগে সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে মারা যান নাভালনি। দাফনের আগে তাঁর দেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষার জন্য দুটি দেশে পাঠানো হয়। তদন্তের বরাতে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, বিষ প্রয়োগের ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত বর্বর এবং এটি রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনের লঙ্ঘন। এ ঘটনায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধ সংস্থার কাছে অভিযোগ জানানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
নমুনা পরীক্ষায় নাভালনির শরীরে ইকুয়েডরের ডার্ট ব্যাঙের চামড়ায় থাকা প্রাণঘাতী বিষ ‘এপিবাটিডিন’-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, কারাগারে বন্দি অবস্থায় তাঁর শরীরে এই বিষ প্রয়োগের সক্ষমতা, উদ্দেশ্য ও সুযোগ কেবল রুশ প্রশাসনেরই ছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এপিবাটিডিন স্বাভাবিকভাবে দক্ষিণ আমেরিকার বন্য ডার্ট ব্যাঙের শরীরে পাওয়া যায়। বদ্ধ অবস্থায় এই ব্যাঙ বিষ উৎপাদন করে না এবং রাশিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশে এ ধরনের ব্যাঙ নেই।
এর আগেও নাভালনিকে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছিল। তাঁর স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনয়া গত বছরের সেপ্টেম্বরে জানান, ময়নাতদন্তে শরীরে বিষের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।
রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, নাভালনিকে হত্যার অভিযোগকে মস্কো পশ্চিমা ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, পরীক্ষার পূর্ণ ফলাফল প্রকাশিত হলে তারা মন্তব্য করবে।





