Skip to main content

Brick Lane News

নাসিমুল গনির রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা কতোটা?

নাসিমুল গনির রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা কতোটা?

বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা কে? রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম- সবখানেই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এই প্রশ্ন। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নাম।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে ক্ষমতাসীন বিএনপি তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক গুঞ্জন যতই জোরালো হোক, আইনের বই খুললেই দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র।

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ বলছে, রাষ্ট্রপতি হতে হলে আগে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। অর্থাৎ এমপি হওয়ার যোগ্যতা না থাকলে রাষ্ট্রপতির দৌড়ও সেখানেই থেমে যাবে। আর এখানেই সামনে আসে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও।

আরপিওর ১২(এইচ) ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের চাকরি থেকে অবসরের পর কেউ যদি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ বা বাতিল হওয়ার পরও তিন বছর পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য হবেন না।

শুধু তাই নয়। আরপিওর ১২(এফ) ধারাও একই ধরনের বাধা তৈরি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরের পর নির্ধারিত সময় পূর্ণ না হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না।

অর্থাৎ আলোচনায় থাকা ওই শীর্ষ আমলা আজই দায়িত্ব ছাড়লেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পথ সঙ্গে সঙ্গে খুলে যাচ্ছে না। আইনের বাধা অতিক্রম করতে তাকে অপেক্ষা করতে হবে তিন বছর।

তাহলে যদি বর্তমান রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, বিএনপির সামনে বিকল্প কে?

রাজনৈতিক মহলে ঘুরছে কয়েকটি পরিচিত নাম। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

তবে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন মানেই শেষ মুহূর্তের চমক।

২০০২ সালে অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর বিএনপি শেষ পর্যন্ত অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে রাষ্ট্রপতি করে সবাইকে অবাক করেছিল।

আবার ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগও বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের পাশ কাটিয়ে মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দিয়ে নতুন চমক দেখিয়েছিল।

এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবরের মাঝে মুখ খুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, “যদি মহামান্য রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণে হোক, যে কোনো কারণে হোক পদত্যাগ করতে চান, সেই অপশন তো উনার আছে। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি,” ।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব নেন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সেই হিসাবে বর্তমান রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের ২৩ এপ্রিল। সে অনুযায়ী এখনো প্রায় ১ বছর ৯ মাস মেয়াদ বাকি রয়েছে তার।