Skip to main content

Brick Lane News

খ্যাতির বিড়ম্বনায় ওলটপালট গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার জীবন

খ্যাতির বিড়ম্বনায় ওলটপালট গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার জীবন

একটি মাত্র ম্যাচ, কয়েকটি অবিশ্বাস্য সেভ—আর তাতেই আমূল বদলে গেল কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার জীবন। বিশ্বকাপে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সাতটি দুর্দান্ত সেভ করে তিনি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। অথচ মাঠের এই সাফল্য তার ব্যক্তিগত জীবনে বয়ে এনেছে অস্বস্তি। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক ‘দ্য অবজারভার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন, খ্যাতির জোয়ারে তিনি তার ব্যক্তিগত শান্তি ও স্বস্তি হারিয়ে ফেলেছেন। অথচ এই খ্যাতিই যেন কেড়ে নিয়েছে তার সবচেয়ে প্রিয় নিরিবিলি জীবন। আমার জীবনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এটাই। সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে স্পেনের সামনে রীতিমতো দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ভোজিনিয়া, যে স্পেন পরে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়। ভোজিনিয়া বলেন, দলের ক্যাটারিংয়ের একজন কর্মী এসে বলেছিল, আমার এক মিলিয়ন ফলোয়ার হয়েছে।

বিশ্বকাপের আগে পর্তুগালের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব শাভেসে খেলা ভোজিনিয়া ছিলেন সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অনেকটাই অচেনা। মাঠের বাইরে তার জীবন ছিল একদমই শান্ত ও ছিমছাম। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। বর্তমানে রেস্টুরেন্টে গেলে অটোগ্রাফ বা ছবি তোলার অনুরোধ, কিংবা দূর থেকে অপরিচিতদের গোপনে ভিডিও করার অভিজ্ঞতায় তিনি আর আগের মতো স্বাভাবিক থাকতে পারছেন না। ভোজিনিয়ার অকপট স্বীকারোক্তি, বর্তমানে খ্যাতির জীবনের চেয়ে আগের সাধারণ জীবনই তার কাছে বেশি পছন্দের ছিল। রেস্টুরেন্টে গেলেও কেউ ছবি তুলতে চায়, অটোগ্রাফ চায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা বেড়েছে অবিশ্বাস্য গতিতে। বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের আগে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৬ হাজার। ম্যাচ শেষে তা এক লাফে ১০ লাখে পৌঁছে যায়। ভোজিনিয়া জানান, দলের ক্যাটারিং বিভাগের এক কর্মী তাকে প্রথম এই সাফল্যের খবরটি দিয়েছিলেন। তখন বিষয়টি কৌতুক মনে হলেও পরবর্তীতে মিক্সড জোনে এক সাংবাদিকের ফোন দেখার পর তিনি নিশ্চিত হন যে, আসলেই তার অনুসারী সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। এমন আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা সামলাতে তিনি এক পর্যায়ে সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন। ভোজিনহা নিজেও শুরুতে বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারেননি।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ম্যাচে ভোজিনিয়া ছিলেন দুর্দান্ত। সেই আসরে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের বিপক্ষে লড়াইয়েও তিনি দলের প্রধান সারথী ছিলেন। ব্যক্তিগত অস্বস্তি সত্ত্বেও তিনি মনে করেন, এই অর্জন ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের জন্য বিশ্বমঞ্চে এক বড় সুযোগ। যদিও নিজেকে দেশের প্রতিনিধি বা অ্যাম্বাসেডর হিসেবেই দেখেন তিনি, তবে এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব একা নিতে রাজি নন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

টুর্নামেন্ট শেষে ভোজিনিয়ার পেশাদার ক্যারিয়ারেও নতুন মোড় এসেছে। তিনি এখন চিলির ক্লাব কোলো-কোলোতে খেলছেন। সৌদি আরবের বিভিন্ন পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তা চূড়ান্ত রূপ পায়নি, তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন। তার বর্তমান লক্ষ্য নতুন ক্লাবে মানিয়ে নিয়ে কোপা লিবার্তাদোরেসে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া।

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের পরিকল্পনা করলেও বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো বোধ করায় জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তিনি। এর মধ্যেই এসেছে ক্যারিয়ারের বড় এক স্বীকৃতি। ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের এক মাস আগে বিশ্বের সেরা ১০ জন গোলরক্ষকের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন তিনি। এমন অর্জনের কথা কল্পনাও করেননি জানিয়ে ভোজিনিয়া বলেন, এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়াটাই তার জন্য অনেক বড় সম্মান ও প্রাপ্তি।