ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ানোর পর ওয়াশিংটনের ওপর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুতের ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বর্তমানে ‘অত্যন্ত সংকটজনক’ পর্যায়ে রয়েছে। ইরান যুদ্ধে ব্যাপক ব্যবহারের পাশাপাশি ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের কাছে সরবরাহের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। ইরানের হামলা ও পাল্টা সামরিক অভিযানের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচল ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় পরিবহন ও বীমা ব্যয়ও বেড়েছে।
অন্যদিকে ইরানও সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা এগোলেও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে তত বেশি করে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে—মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক চাপ বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখা। এর পাশাপাশি যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।