Skip to main content

Brick Lane News

দেশের অর্থনীতিতে পোশাকশিল্পের অবদান অনস্বীকার্য: মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের

দেশের অর্থনীতিতে পোশাকশিল্পের অবদান অনস্বীকার্য: মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে শিল্পখাত এবং বিশেষ করে পোশাকশিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত দ্য ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি), বাংলাদেশের নবনির্বাচিত ১৫তম কেন্দ্রীয় পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের কঠিন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সরকার, শিল্পমালিক এবং প্রকৌশলীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করা সম্ভব। গত ২৬ জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা আমার পুরো প্যানেলকে বিজয়ী করেছেন এবং আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত করে যে ঋণে আবদ্ধ করেছেন, তার জন্য আমি চির কৃতজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইটিইটির সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। এছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ আইটিইটির সদস্য ও টেক্সটাইল প্রকৌশলীরা এতে অংশ নেন। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে আরো ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী শোয়েব বাশরী হাবলু, রাজউক চেয়ারম্যান ও আইইবি সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম ‘দল-মত যার যার, আইটিইটি আমাদের সবার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সংগঠনের কাজের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কার্যনির্বাহী কমিটিকে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবার জন্য কাজ করতে হবে। তিনি টেক্সটাইল গবেষণার জন্য পৃথক তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে জ্বালানি দক্ষতা, অটোমেশন ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব। পাশাপাশি জাতীয় টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যান্ড এক্সিলেন্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য আলাদা বিসিএস ক্যাডার চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আমি বলব সময় এসেছে সত্য প্রমাণ করার-‘দল-মত যার যার, আইটিইটি আমাদের সবার। ”। “আইটিইটি এমন হবে যেখানে এখানকার প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মিনিংফুল মেম্বারশিপ নিশ্চিত করা যাবে। এই আইটিইটিতে নির্বাচিত সদস্যদের সাথে তাদের সৎ, নিষ্ঠাবান নেতৃত্বের সাথে যারা নির্বাচিত হয়নি তাদেরও শুধু গঠনমূলক আলোচনা নয়, গঠনমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে”, যোগ করেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, বিদেশে ব্যবসার প্রসারে দূতাবাসগুলোর সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, একজন রাষ্ট্রদূত শুধু সরকারের প্রতিনিধি নন, বরং দেশের একজন ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’। এছাড়া কারখানায় মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাপনী বক্তব্যে আইটিইটির সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন দীর্ঘদিনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর কমার্সিয়াল উইং-এ টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিদেশে টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞ থাকলে ক্রেতাদের সাথে কারিগরি বোঝাপড়া ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সমন্বয় করা সহজ হবে। ২৬ জুনের নির্বাচনে তাকে ও তার প্যানেলকে বিজয়ী করায় সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি স্বচ্ছ ও সদস্য-বান্ধব আইটিইটি উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। বিদেশের মাটিতে একজন টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞ থাকলে ক্রেতাদের সাথে টেকনিক্যাল বোঝাপড়া, চাহিদা অনুযায়ী গার্মেন্টস প্রোডাকশন নিশ্চিত করা এবং দেশের কারখানার সাথে কার্যকর লিয়াজো রক্ষা করা অনেক সহজ হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটির ২৭ জন দক্ষ ও পরীক্ষিত কর্মীকে সাথে নিয়ে আমরা আপনাদের একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, কার্যকর ও সদস্য বান্ধব নতুন আইটিইটি উপহার দিতে পারব। ”।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা প্রধান অতিথির কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন। এরপর নবনির্বাচিত সদস্যরাও শুভেচ্ছা ও সম্মাননা গ্রহণ করেন। সবশেষে রাতের খাবার ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। বক্তারা সামগ্রিকভাবে টেক্সটাইল খাতের উন্নয়ন ও প্রকৌশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।