Brick Lane News

বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে

বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে

বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ পূর্ববর্তী কর্মসূচিতে এ কথা বলেন তিনি। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী এর আয়োজন করে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ছয়টি ধাপে বিদ্যুতের যে পরিমাণ দাম বাড়ানো হয়েছে, প্রান্তিক মানুষ শূন্য থেকে অন্তত ৫০ ইউনিট ব্যবহার করে, প্রায় তিন কোটি গ্রাহকের ওপরে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করে জনগণের ওপর জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে বিদ্যুৎ সেক্টরের অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও লুটপাট বন্ধ করা উচিত ছিল বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সেক্টরে ওইসব অনিয়মের সঙ্গে সরকারের সিন্ডিকেটরাও দুর্নীতির টাকা খাওয়ার কাজে জড়িত আছে। ওইটা কমাতে গেলে সরকারের পকেটে টাকা যাবে না। বরং প্রান্তিক গরিব মানুষের বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে সেই টাকা আবার তারা পকেটগ্রস্ত করতে চায়।

বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর ভোগান্তি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে গোটা জাতিকে একটা সংকটের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। বিদ্যুৎ না হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, গার্মেন্টস শিল্প, পরিবহন শিল্প, কৃষি, সেচ চলে না।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের এক বৈঠকে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না। এরপর তিন মাসও যেতে পারল না, আপনি বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিলেন। এর আগে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছেন প্রায় ১২ শতাংশ। সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ছয়শ থেকে সাতশ টাকা বাড়িয়েছেন। দিন যেতে না যেতেই আবার বিদ্যুতের দাম গ্রাহক পর্যায়ে প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়েছেন।

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রামিসার মতো নিষ্পাপ শিশুর খুন নিষ্ঠুরভাবে হলো, চাঁদাবাজি হচ্ছে, লুটপাট হচ্ছে, বিএনপির নেতারা সফর করার আগে পনেরো বছরের মেয়ে জোগাড় করে রাখতে বলে, সেই দিকে দলকে সংশোধনের কোনো প্রচেষ্টা সরকারের নেই।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আইএমএফের শর্ত পূরণ করার জন্য বৈঠক করেছেন বলে দাবি জামায়াত সেক্রেটারির। তিনি বলেন, আইএমএফ শর্ত দিয়েছে বিদ্যুতের দাম বাড়াও, তারা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের কাছে আমরা দাসখত দিইনি। আমরা তাদের গোলাম নই। তাদের কথায় বিদ্যুতের মূল্য বাড়িয়ে জনগণের দুঃখ-কষ্ট আর দুর্ভোগ আপনি আবার বাড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, অবিলম্বের বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করতে হবে। গণবিরোধী পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুৎ সেক্টরের দুর্নীতি, অনিয়ম, সিস্টেম লস, অব্যবস্থাপনা বন্ধ করে বিদ্যুৎ সেক্টরকে রক্ষা করতে হবে।