ভোলার বোরহানউদ্দিনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের মধ্যে তুমুল ধাওয়া–পালটাধাওয়াসহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর বোরহানউদ্দিন উপজেলার বোরহানগঞ্জ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। ঘটনার পর বিএনপি ও জামায়াত আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে হামলার দায় একে অপরের ওপর চাপিয়েছে।
রাত ১০টার দিকে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ভোলা-২ আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট মো. আকবর হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতা হারুন মাওলানার নেতৃত্বে একটি মিছিল বোরহানগঞ্জ বাজারে বিএনপির পার্টি অফিসে হামলা চালায়। এতে তাদের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। পরে জামায়াতের আরও নেতাকর্মী হামলায় যোগ দিয়ে বাজারে দোকানপাটে লুটপাট চালায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আহতদের মধ্যে পক্ষিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম মাতাব্বর, যুবদল কর্মী সিয়াম মুন্সী, ছাত্রদল সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিল হাওলাদার ও ছাত্রদল কর্মী অন্তর রয়েছেন বলে জানান আকবর হোসেন। তিনি আরও দাবি করেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জামায়াতের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
অন্যদিকে রাত ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিন জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা কার্যালয়ে পালটা সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল করিমের প্রধান নির্বাচন পরিচালক মাওলানা মাকছুদুর রহমান বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, জামায়াত সমর্থিত এলডিপির প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর শোকরানা মিছিল বের করা হলে বিএনপি কর্মীরা হামলা চালায়। এতে তাদের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন।
জামায়াতের দাবি অনুযায়ী আহতদের মধ্যে পক্ষিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নূর ইসলাম মাস্টার ও ভোলা পলিটেকনিক্যাল মসজিদের ইমাম মাওলানা ওবায়েদুল্লাহ গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানান তারা।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মনোরঞ্জন বর্মণ জানান, খবর পেয়ে যৌথবাহিনী ও প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।


