রংপুরের তারাগঞ্জে আলোচিত রূপলাল ও প্রদীপ লাল হত্যা মামলার এক আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি দিচ্ছেন এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহত রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী তারাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দেওয়া অভিযোগে ভারতী রানী জানান, মামলার গ্রেপ্তারকৃত ১২ আসামির একজন মো. রুবেল পাইকার জামিনে বেরিয়ে প্রকাশ্যে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৯ আগস্ট রাতে মিঠাপুকুর উপজেলার ছড়ান বালুয়া এলাকা থেকে ভ্যান নিয়ে তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রামে রূপলালের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন প্রদীপ লাল। পথ ভুলে গেলে তাঁকে আনতে যান রূপলাল। রাত সাড়ে আটটার দিকে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে পৌঁছালে চোর সন্দেহে স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করে। পরে দফায় দফায় মারধরের এক পর্যায়ে দুজনের মৃত্যু হয়।
পরদিন ১০ আগস্ট নিহত রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রায় ৭০০ জনকে আসামি করা হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের একজন রুবেল পাইকার জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর গত ২২ জানুয়ারি তারাগঞ্জ বাজারে ভারতী রানী ও তাঁর ছেলে জয়কে দেখে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মামলা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানালে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ভারতী রানী বলেন, ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করলেও এখন তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। ভয়ে তাঁর ছেলে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না বলেও জানান তিনি।
নিহত রূপলালের ছেলে জয় রবিদাস অভিযোগ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ভিডিওতে অভিযুক্তদের স্পষ্ট দেখা গেলেও কয়েকজন আসামি এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন। তিনি দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
তবে হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. রুবেল পাইকার। তিনি দাবি করেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও সাজানো। মামলায় বিপুলসংখ্যক আসামি থাকায় তাঁর একার পক্ষে মামলা প্রত্যাহারে চাপ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
তারাগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার এসআই প্রদীপ কুমার বর্মণ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, তিনি আদালতে থাকায় বিষয়টি বিস্তারিত জানেন না।



