ব্রিকলেন নিউজ, লন্ডন: বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ঢাকায় “Exporting to the UK: Opportunities Beyond RMG” শীর্ষক একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB), ঢাকা চেম্বার (DCCI) এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুই দেশের বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
১ শতাংশ বাজার দখলেই ১০ বিলিয়ন ডলার
কর্মশালায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের আমদানি বাজারে বাংলাদেশের বর্তমান অংশ মাত্র ০.৪৯ শতাংশ। এটি ১ শতাংশে উন্নীত করতে পারলে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানির মাত্র ৬ শতাংশ তৈরি পোশাক (RMG) ছাড়া অন্য পণ্য। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, জুতা ও আসবাবপত্রকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বক্তারা পণ্যের মান উন্নয়ন, টেস্টিং ও সার্টিফিকেশন সুবিধা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন।
এলডিসি উত্তরণের আগে বাণিজ্য চুক্তির তৎপরতা
বাংলাদেশ চলতি বছরের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সরকার একসঙ্গে ১০টি অংশীদারের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে, RCEP-তে প্রবেশের চেষ্টা করছে এবং উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৮টি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রথম দফা FTA আলোচনা ২৭-২৯ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। গতকাল ঢাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে নেদারল্যান্ডসের সমর্থনও চেয়েছে।
কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে জুনে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী লন্ডনে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী স্যার ক্রিস ব্রায়ান্টসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে বিমান চলাচল খাতে বিনিয়োগ ছিল অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
প্রবাসী উদ্যোক্তাদের ভূমিকা
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সমাজ এই বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। সিলেটে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা ইকবাল আহমেদ, যিনি Seamark-এর মাধ্যমে পরিচিত, UK Bangladesh Catalyst of Commerce and Industry (UKBCCI)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করছেন। এছাড়া সরকারি উদ্যোগ Startup Bangladesh Limited-এর “NRB–Startup Bridge” কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবাসী বিনিয়োগকারী, পেশাজীবী ও প্রতিষ্ঠাতারা দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে সহ-বিনিয়োগ, মেন্টরশিপ ও গবেষণা সহযোগিতার সুযোগ পাচ্ছেন। B100 Ventures-এর মতো প্রবাসী-কেন্দ্রিক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মও ২৭টি দেশে ৮৪টি হাবের মাধ্যমে ৫ হাজারের বেশি সদস্যের নেটওয়ার্ক গড়ার দাবি করছে।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ
যারা খাদ্য, ওষুধ, জুতা বা আসবাবপত্র আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য তৈরি পোশাকের বাইরে এই নতুন বাজার-সম্ভাবনা বিবেচনার মতো। ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের আগে মান ও সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত নিয়ম এবং শুল্ক-সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।