সুশান্ত দাস গুপ্ত:
একটি দেশের জন্মতারিখ জানা সহজ, কিন্তু তার নামের জন্মতারিখ খুঁজে বের করা অনেক কঠিন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিন আমরা জানি, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। কিন্তু বাংলাদেশ নামটি প্রথম কবে পৃথিবীতে উচ্চারিত হয়েছিল?
কে প্রথম লিখেছিলেন এই শব্দ? কোনো প্রাচীন কবি, সংস্কৃত পণ্ডিত, মধ্যযুগের রাজদরবারের লেখক, নাকি আধুনিক যুগের কোনো সাহিত্যিক? প্রশ্নটি যত সহজ মনে হয়, উত্তর খুঁজতে গেলে ইতিহাসের তত গভীরে প্রবেশ করতে হয়। কারণ বাংলাদেশ নামটি কোনো এক ব্যক্তির একদিনের আবিষ্কার নয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রাচীন বঙ্গ জনপদের স্মৃতি, মধ্যযুগের বাঙ্গালা, ঔপনিবেশিক যুগের বাংলা এবং শেষ পর্যন্ত একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আত্মপরিচয়।
এই ইতিহাস অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ‘বঙ্গ’, ‘বঙ্গদেশ’, ‘বাঙ্গালাদেশ’, ‘বাংলা দেশ’ এবং ‘বাংলাদেশ’ শব্দগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেও এগুলো সব একই বানানের শব্দ নয়। কোনো প্রাচীন পুঁথিতে বঙ্গদেশ পাওয়া গেলেই সেখানে আধুনিক বাংলাদেশ শব্দটি পাওয়া গেছে বলা যায় না। আবার পুরোনো বানানে বাঙ্গালাদেশ লেখা থাকলে সেটিকে আধুনিক বাংলাদেশ শব্দের ইতিহাস থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়াও ঠিক হবে না। ইতিহাসের অনুসন্ধানে তাই শব্দের অর্থের পাশাপাশি মূল বানান, রচনার সময় এবং প্রাচীনতম সংরক্ষিত দলিলও পরীক্ষা করতে হয়।
প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে বঙ্গ নামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ঐতরেয় আরণ্যক, মহাভারত, রামায়ণ এবং বিভিন্ন পুরাণে বঙ্গ বা তার অধিবাসীদের উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব গ্রন্থের রচনাকাল এককভাবে নির্ধারণ করা যায় না। বহু শতাব্দী ধরে এগুলোর রচনা, সংকলন ও সম্পাদনা হয়েছে। ফলে কোনো গ্রন্থে বঙ্গ নাম পাওয়া গেলেই সেই উল্লেখের জন্য নির্দিষ্ট একটি খ্রিস্টপূর্ব সাল ঘোষণা করা সম্ভব নয়। ঐতিহাসিক দীনেশচন্দ্র সেন তার History of Bengali Language and Literature গ্রন্থে এই প্রাচীন জনপদের সাহিত্যিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এখান থেকে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে বঙ্গ নামের ইতিহাস আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বহু আগের। কিন্তু আধুনিক বাংলাদেশ শব্দটি মহাভারত বা রামায়ণে সরাসরি পাওয়া যায়, এমন প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত নয়।
গ্রিক ও রোমান ঐতিহাসিক বিবরণেও গঙ্গার নিম্ন অববাহিকার শক্তিশালী জনগোষ্ঠীর পরিচয় পাওয়া যায়। গ্রিক লেখকদের Gangaridai নামটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। অনেক ইতিহাসবিদ এই জনগোষ্ঠীর অবস্থান প্রাচীন বঙ্গের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন। তবে Gangaridai শব্দের সঙ্গে বঙ্গের সম্ভাব্য ভৌগোলিক সম্পর্ক থাকলেও সেটিকে বাংলাদেশ শব্দের সরাসরি প্রাচীন রূপ বলা যায় না। গ্রিক ইতিহাস আমাদের এই ভূখণ্ডের প্রাচীন রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক পরিচয় বুঝতে সাহায্য করে, কিন্তু বাংলাদেশ শব্দটির প্রথম লিখিত ব্যবহার নির্ধারণ করে না।
প্রাচীন শিলালিপির অনুসন্ধানেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। ৮০৫ খ্রিস্টাব্দের রাষ্ট্রকূট রাজা তৃতীয় গোবিন্দের নেসারি তাম্রশাসনের আলোচনায় বঙ্গাল বা তার কাছাকাছি শব্দরূপের উল্লেখ পাওয়া যায় বলে ঐতিহাসিক ব্যাখ্যায় দাবি করা হয়েছে। তবে মূল তাম্রশাসনের নির্ভুল পাঠ এবং সেই পাঠের সঙ্গে পরবর্তী অনুবাদের তুলনা না করে এটিকে আধুনিক বাংলাদেশ শব্দের প্রথম প্রমাণ বলা যাবে না। একইভাবে একাদশ শতকের কিছু পাণ্ডুলিপিতে ‘ভাংলাদেসা’ জাতীয় শব্দরূপ থাকার দাবি প্রচলিত থাকলেও নির্দিষ্ট পাণ্ডুলিপি, পৃষ্ঠা ও মূল ভাষার পাঠ যাচাই ছাড়া সেই দাবিকে চূড়ান্ত ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
মধ্যযুগে বঙ্গ নামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। তখন গৌড়, রাঢ়, সমতট, হরিকেল ও বঙ্গসহ বিভিন্ন অঞ্চল পৃথক পরিচয়ে পরিচিত ছিল। চতুর্দশ শতকে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বৃহত্তর বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলকে রাজনৈতিকভাবে একত্রিত করার পর বাঙ্গালা নামটি একটি বিস্তৃত ভূখণ্ডের পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। পরবর্তী সুলতানি ও মোগল আমলে বাঙ্গালা বা বাংলা নামটি প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক অর্থে আরও পরিচিত হয়ে ওঠে। ইউরোপীয়দের Bengal নামটিও এই দীর্ঘ ভাষাগত বিবর্তনের অংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশ নামটির প্রথম অংশ ‘বাংলা’ আধুনিক কোনো রাজনৈতিক উদ্ভাবন নয়, বরং কয়েক শতাব্দীর ঐতিহাসিক বিবর্তনের ফল।
আঠারো শতকে এসে আমরা আরও স্পষ্ট লিখিত প্রমাণ পাই। ১৭৪৩ সালে প্রকাশিত মনোয়েল দা আসসুম্পসাঁওয়ের বাংলা-পর্তুগিজ ভাষাবিষয়ক গ্রন্থে Bengalla জাতীয় শব্দরূপ ব্যবহৃত হয়। ১৭৭৮ সালে ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড প্রকাশ করেন A Grammar of the Bengal Language। গ্রন্থটির মূল মুদ্রিত সংস্করণ এখনো ডিজিটাল আকারে সংরক্ষিত রয়েছে। এর শিরোনাম থেকেই বোঝা যায়, আঠারো শতকে বাংলা ও Bengal নামগুলো ইউরোপীয় ভাষাবিজ্ঞান ও মুদ্রণজগতে প্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু এসব গ্রন্থে বাংলাদেশ শব্দের আধুনিক পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়েছিল, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উনিশ শতকের শুরুতে বাংলা গদ্যের বিকাশ এই অনুসন্ধানের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ১৮০১ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের কাজ শুরু হওয়ার পর বাংলা ভাষায় পাঠ্যপুস্তক, অনুবাদ, অভিধান ও গদ্যগ্রন্থ প্রকাশের পরিমাণ বাড়ে।
উইলিয়াম কেরির ১৮১৮ সালের A Dictionary of the Bengalee Language এই সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উৎস। কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত সংস্করণের বিবরণ ভারতের ন্যাশনাল ডিজিটাল লাইব্রেরিতে পাওয়া যায়। কেরির অভিধান বাংলা শব্দের ইতিহাস অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু গ্রন্থটির অস্তিত্ব থেকে সেখানে বাংলাদেশ শব্দটি রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। তার জন্য মূল অভিধানের সংশ্লিষ্ট শব্দভুক্তি পরীক্ষা করতে হবে।
উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র ও রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনায় বঙ্গদেশ জাতীয় ভৌগোলিক পরিচয়ের ব্যবহার পাওয়া যায় বলে সাহিত্য-ঐতিহাসিক আলোচনায় উল্লেখ রয়েছে। এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় মনে রাখতে হবে। ‘বঙ্গদেশ’ শব্দটি বাংলাদেশ নামের অর্থগত পূর্বসূরি হলেও দুটি শব্দের বানান এক নয়। তাই শুধু বঙ্গদেশের ব্যবহার দেখিয়ে বাংলাদেশ শব্দের প্রথম ব্যবহার প্রমাণ করা সম্ভব নয়।
এই দীর্ঘ ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের সময় রচিত ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ গানটিকে বাংলাদেশ শব্দের অন্যতম সুপরিচিত প্রাথমিক সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু ১৯০৫ সালের আগে রবীন্দ্রনাথের গদ্য ও রাজনৈতিক চিন্তায় স্বদেশ, বঙ্গদেশ এবং বাংলাদেশ পরিচয়ের বিকাশ ঘটেছিল। তার উনিশ শতকের রচনাগুলো পরীক্ষা করলে এই নামের আরও পুরোনো ব্যবহার শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক চিন্তার বিবর্তন নিয়ে নাজমুল সুলতানের গবেষণাতেও ১৮৮০-এর দশকের রাজনৈতিক ভাষার গুরুত্ব আলোচিত হয়েছে। তবে সেই আলোচনা একা বাংলাদেশ শব্দের নির্দিষ্ট প্রথম ব্যবহারের প্রমাণ নয়।
এখানে আরেকটি নাম অনুসন্ধানের দাবি রাখে, কুমুদীন্দ্রনাথ মজুমদার। তার বাংলাদেশের কথা নামে একটি গ্রন্থের উল্লেখ পাওয়া যায়। কোনো কোনো লেখায় এই গ্রন্থকে বাংলাদেশ শব্দের প্রাচীন ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ বলা হয়েছে। কিন্তু গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণের প্রকাশকাল, শিরোনামপত্র এবং মূল পাঠের নির্ভরযোগ্য প্রতিলিপি এই অনুসন্ধানে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এই গ্রন্থকে রবীন্দ্রনাথের আগের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা এখনই সম্ভব নয়।
বিশ শতকের প্রথম ভাগে বাংলাদেশ শব্দটির সাহিত্যিক পরিচয় আরও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। রবীন্দ্রনাথের পর কাজী নজরুল ইসলামের ‘নমঃ নমঃ নমো বাংলাদেশ মম’ গানটি এই নামকে মাতৃভূমির আবেগের সঙ্গে যুক্ত করে। এখানে বাংলাদেশ কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক নাম ছিল না। এটি ছিল বাঙালির দেশ, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক ভূখণ্ডের পরিচয়। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই শব্দ বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক অর্থ বহন করতে পারে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত হওয়ার পর বাংলার পূর্বাংশ পূর্ববঙ্গ এবং পরে পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত হয়। কিন্তু পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতিসত্তার প্রশ্ন যত প্রবল হতে থাকে, বাংলাদেশ নামটিও তত রাজনৈতিক তাৎপর্য অর্জন করে। ভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসনের দাবি এবং ষাটের দশকের গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নামটি আর কেবল সাহিত্যিক মাতৃভূমির পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি।
১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে এই ভূখণ্ডের নাম বাংলাদেশ রাখার ঘোষণা দেন। ঐতিহাসিকভাবে এই ঘটনার গুরুত্ব অসাধারণ। কারণ তিনি কোনো সম্পূর্ণ নতুন শব্দ তৈরি করেননি। বরং বহুদিনের পরিচিত একটি সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক নামকে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে সামনে নিয়ে আসেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সেই পরিচয় স্বাধীন রাষ্ট্রের বাস্তবতায় রূপ নেয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রে এই রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সংগ্রামের বিস্তৃত বিবরণ সংরক্ষিত রয়েছে।
তাহলে এত অনুসন্ধানের পর মূল প্রশ্নের উত্তর কী দাঁড়াল? আধুনিক বাংলাদেশ শব্দটি সর্বপ্রথম কে লিখেছিলেন?
এখন পর্যন্ত যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে কোনো একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশ শব্দের নিশ্চিত প্রথম ব্যবহারকারী হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। রবীন্দ্রনাথের ১৯০৫ সালের গানটি একটি সুস্পষ্ট এবং তারিখনির্দিষ্ট প্রমাণ। কিন্তু সেটিই প্রথম ব্যবহার, এমন দাবি প্রতিষ্ঠিত নয়। এর আগের উনিশ শতকের গ্রন্থ, সংবাদপত্র, অভিধান ও পাণ্ডুলিপিতে বাংলাদেশ, বাঙ্গালাদেশ কিংবা বাংলা দেশ শব্দরূপের ব্যবহার ছিল কি না, তা নির্ধারণের জন্য আরও বিস্তৃত মূলপাঠভিত্তিক গবেষণা প্রয়োজন।
এই অনুসন্ধানে ১৭৭৮ সালের হ্যালহেডের ব্যাকরণ, ১৮১৮ সালের কেরির অভিধান, উনিশ শতকের বাংলা গদ্যের ইতিহাস এবং রবীন্দ্রনাথের পূর্ববর্তী সাহিত্যিকদের ব্যবহারসংক্রান্ত আলোচনা পাওয়া গেছে। কিন্তু এগুলোর কোনোটিতেই বাংলাদেশ শব্দের সর্বপ্রথম উপস্থিতি মূল পৃষ্ঠাসহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অতএব প্রাচীনতম নিশ্চিত নিদর্শন আর পৃথিবীর প্রথম ব্যবহারকে এক করে দেখানো ইতিহাসের প্রতি সুবিচার হবে না।
বাংলাদেশ নামের ইতিহাস তাই কোনো একটি বছর কিংবা একটি মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাচীন বঙ্গের জনপদ থেকে মধ্যযুগের বাঙ্গালা, ঔপনিবেশিক যুগের বাংলা, কবিদের বাংলাদেশ এবং শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীন বাংলাদেশ পর্যন্ত এটি দীর্ঘ বিবর্তনের ইতিহাস। একটি ভূখণ্ডের নাম কীভাবে মানুষের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের পরিচয়ে পরিণত হয়, বাংলাদেশ তার একটি অসাধারণ উদাহরণ।
প্রাথমিক উৎস ও গবেষণা-রেফারেন্স:
1\. Nathaniel Brassey Halhed (1778), A Grammar of the Bengal Language. বাংলা ও Bengal নামের আঠারো শতকের ব্যবহার যাচাইয়ের জন্য মূল মুদ্রিত গ্রন্থ। [ডিজিটাল মূল সংস্করণ](https://en.wikisource.org/…/File:A_Grammar_Of_The…)।
2\. William Carey (1818), A Dictionary of the Bengalee Language, Vol. 1. শ্রীরামপুর মিশন প্রেসে প্রকাশিত অভিধান। [National Digital Library of India](https://ndl.iitkgp.ac.in/…/_rarebooks_dictionary…)।
3\. William Carey (1825), A Dictionary of the Bengalee Language, revised edition. বাংলা শব্দের উৎপত্তি ও পুরোনো শব্দরূপ অনুসন্ধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। [Cambridge University Press](https://www.cambridge.org/…/89BE5A36098CF37241B45E44B8C…)।
4\. Dinesh Chandra Sen (1911), History of Bengali Language and Literature. প্রাচীন বঙ্গ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ঐতিহাসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ। [গ্রন্থতালিকা ও ডিজিটাল উৎস](https://en.wikisource.org/…/Portal:Bengali_language_and…)।
5\. Sisir Kumar Das (1963), Early Bengali Prose: Carey to Vidyasagar. উনিশ শতকের প্রথমার্ধের বাংলা গদ্যের বিকাশসংক্রান্ত গবেষণা। [SOAS University of London](https://soas-repository.worktribe.com/…/early-bengali…)।
6\. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯০৫), ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’। আধুনিক বাংলাদেশ শব্দের একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখনির্দিষ্ট সাহিত্যিক নিদর্শন।
7\. নাজমুল সুলতান, ‘রবীন্দ্রনাথের স্বদেশ-সন্ধান’। রবীন্দ্রনাথের উনিশ শতকের রাজনৈতিক ভাষা ও স্বদেশচিন্তার বিশ্লেষণ। [প্রথম আলো] .
8\. বাংলাপিডিয়া, ‘বাংলা ভাষা’। বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক বিকাশ এবং প্রাচীন থেকে আধুনিক যুগে ভাষাগত পরিবর্তনের গবেষণামূলক বিবরণ। [বাংলাপিডিয়া](https://bn.banglapedia.org/index.php…)।
9\. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র, দ্বিতীয় ও দ্বাদশ খণ্ড। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিচয় ও মুক্তিযুদ্ধের সমকালীন দলিলের সংকলন। [দ্বিতীয় খণ্ড]।
10\. ‘এই ভূখণ্ডের নাম কীভাবে বাংলাদেশ হলো?’ বাংলাদেশ নামের ঐতিহাসিক ব্যবহারসংক্রান্ত পর্যালোচনা। [জাগো নিউজ]
[এই অনুসন্ধানে পুরোনো অভিধান, আঠারো শতকের মুদ্রিত গ্রন্থ এবং উনিশ শতকের গদ্যসাহিত্যের উৎস যুক্ত হয়েছে। তবে এগুলো সব মূল পৃষ্ঠা ধরে সম্পূর্ণ পরীক্ষা করা হয়েছে, এমন দাবি করছি না। বিশেষ করে ‘বাংলাদেশ’ শব্দটির পৃথিবীর প্রথম ব্যবহার নির্ধারণের প্রশ্নটি এখনো অমীমাংসিত। ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উত্তর কখনো কখনো কোনো একটি নাম ঘোষণা করা নয়, বরং কোন তথ্য প্রমাণিত এবং কোনটি এখনো অনুসন্ধানাধীন, তা পরিষ্কার করে দেওয়া।]