প্রতিবেদক, ব্রিকলেন নিউজ, ঢাকা:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে বেতার ও টেলিভিশনে আজান বন্ধ করে দেওয়া এবং মাদ্রাসা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার যে দাবি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী করেছেন, তা তথ্যগতভাবে সঠিক নয়। তথ্য যাচাইকারী প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্যাক্ট চেক জোন’-এর এক অনুসন্ধানে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী দাবি করেন, স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান রেডিও ও টেলিভিশনে আজান প্রচার বন্ধ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে এক জনসভায় এক বয়োবৃদ্ধের অনুরোধে তা পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন। এ ছাড়া তৎকালীন সরকার মাদ্রাসা বন্ধেরও চেষ্টা চালিয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে ঐতিহাসিক নথি ও গণমাধ্যমের আর্কাইভ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পাকিস্তান আমল থেকেই রেডিও বা টেলিভিশনে আজান প্রচারের কোনো রেওয়াজ ছিল না। ফলে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে তা বন্ধ করার যে দাবি করা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। সেই সময় মূলত যন্ত্রে ধারণকৃত (রেকর্ডেড) আজান সম্প্রচার নিয়ে আলেম সমাজের একাংশের মধ্যে রক্ষণশীল মনোভাব ছিল। তবে আজান প্রচারিত না হলেও সে সময় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে নিয়মিত পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত প্রচারিত হতো।
গণমাধ্যমের বিভিন্ন তথ্য ও ইতিহাস পর্যালোচনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় বেতার ও টেলিভিশনে আজান সম্প্রচার মূলত শুরু হয় আশির দশকে এইচ এম এরশাদের শাসনামলে (আনুমানিক ১৯৮৩-১৯৮৪ সালের দিকে)।
অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মাদ্রাসা বন্ধের চেষ্টার অভিযোগটিও নথিপত্রের সঙ্গে মেলে না। ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার দলিল’ গ্রন্থের সূত্র অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের উপস্থিতিতে গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব আলহাজ্ব মাওলানা আবদুস সালাম ও কাপাসিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ওয়ারেছ আলীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ওই বৈঠকে বঙ্গবন্ধু স্পষ্টভাবে জানান, তাঁর সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার বিরোধী নয়; বরং স্কুল-কলেজেও কোরআন-হাদিসের পাঠ অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে। একই সঙ্গে তিনি ধর্মকে রাজনৈতিক বাণিজ্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধের অঙ্গীকার করেন। সেই বৈঠকেই তিনি বন্ধ থাকা মাদ্রাসাগুলো অবিলম্বে খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং শিক্ষকদের সরকারি অনুদানসহ যাবতীয় বকেয়া পাওনা পাকিস্তান আমলের নিয়মে দ্রুত পরিশোধের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন।
এ বিষয়ে ফ্যাক্ট চেক জোনের বিস্তারিত অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রমাণসহ পূর্ণ ফ্যাক্ট চেক এখানে দেখতে পারেন।