Skip to main content

Brick Lane News

প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে মানুষের গড় আয়ু ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। এই দীর্ঘায়ু একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনা বয়ে আনছে, অন্যদিকে প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের সার্বিক সফলতা কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও স্বার্থরক্ষায় বর্তমান সরকার অত্যন্ত সচেষ্ট। একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দেশের প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে সরকার প্রধান জানান, ইতিমধ্যেই বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং এর সুবিধাভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বিস্তার এবং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করার কাজ চলমান রয়েছে। প্রবীণদের সমাজ ও পরিবারের মূল ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, তাঁদের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা এবং ত্যাগের ওপর ভর করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই একটি কল্যাণকামী ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল হওয়া জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা, সহানুভূতি এবং দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রবীণদের সামাজিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সমাজে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষায় সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

তবে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমাদের সমাজে আবহমান কাল ধরে চলে আসা ধর্মীয়, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ যত বেশি বজায় থাকবে, প্রবীণদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা তত বেশি সুরক্ষিত হবে। প্রবীণদের অবহেলা না করে তাঁদের সুস্বাস্থ্য রক্ষা করা, সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত রাখা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনার জন্য সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি বৈষম্যহীন ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য, যেখানে তরুণ থেকে শুরু করে প্রবীণ—প্রতিটি নাগরিক তাঁদের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পূর্ণ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করার সুযোগ পাবেন।