ঢাকার আদালত থেকে হাজিরা শেষে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজনভ্যান থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছেন রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা। এই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে ডিসি হেডকোয়ার্টারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের এই তদন্ত কমিটি আসামি পলায়নের নেপথ্যে দায়িত্বে থাকা সদস্যদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আসামি পলায়নের পরে আমরা গাড়ির ড্রাইভারসহ পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি। ”। ডিসি হেডকোয়ার্টারের নেতৃত্বে ওই কমিটি কাজ করবে। ” কীভাবে একজন ২৫ মামলার আসামি পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেন এবং দায়িত্বে থাকা সদস্যদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি, জানান তিনি।
কারাগার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে হাজিরার জন্য প্রিজনভ্যানে করে পিচ্চি রাজাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল। হাজিরা শেষে তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ ফিরিয়ে আনা হচ্ছিল। ফেরার পথে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় পৌঁছালে প্রিজনভ্যানটি থামিয়ে প্রাকৃতিক কাজ সারার কথা জানান ওই আসামি। দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে একটি শৌচাগারে নিয়ে গেলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ মে মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সে সময় নেপাল থেকে ফেরার পথে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় বিমানবন্দর থেকে তার স্ত্রী ও শ্যালকসহ তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। বিভিন্ন থানায় মাদক ও অস্ত্রসহ তার বিরুদ্ধে ২০ থেকে ২৫টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে ওই আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।