জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে সরকারি সফরসূচিতে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ ও দীর্ঘসময় দেশের বাইরে না থাকার নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিল করা হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন সরকারপ্রধান।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বিদেশ সফর। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তিনি দেশ ছাড়বেন। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে ভাষণ দেবেন। ওই অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প আয়োজক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় তার অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার এই সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে ফার্স্টলেডি জুবাইদা রহমানকে নিয়ে যাবেন। পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে সানফ্রান্সিসকো গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর, তবে সফর সংক্ষিপ্ত হওয়ায় তা আর হচ্ছে না।
সফর শুধু সংক্ষিপ্তই নয়, আগের সরকারগুলোর তুলনায় এবারের সফরসঙ্গীর বহরও অনেক সীমিত রাখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩০ জনের নিচে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী ছিল ১৮০ জন, ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯২ জনে। ২০২৪ সালের ৭৯তম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গীর তালিকা পুস্তিকা অনুযায়ী ছিল ৫৭ জন, যদিও সরকারি নথিতে সেই সংখ্যা ছিল ৮০ জনের বেশি। রাষ্ট্রীয় অর্থের সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে এবার কেবলমাত্র দায়িত্ব পালনের জন্য অপরিহার্য ব্যক্তিদেরই রাখা হচ্ছে।
জাতিসংঘের এই অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ প্রায় চার দশক পর কোনো বাংলাদেশি কূটনীতিক—পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান—সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের উপস্থিতি এবারের অধিবেশনকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্য ও ভিশন তুলে ধরবেন। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে সরকারের রূপরেখা বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের অন্যতম অগ্রাধিকার থাকবে রোহিঙ্গা সংকট। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করবে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে বর্তমান সরকারের অবস্থানও প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় গুরুত্ব পাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে না থাকা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সফরটি সংক্ষিপ্ত করার আগ্রহ জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর ২১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো দেশ ছাড়ছেন জাতীয়তাবাদী সরকার প্রধান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওয়াশিংটন ডিসিতে কিছু কর্মসূচি থাকলেও সফরের প্রধান আয়োজন থাকবে জাতিসংঘকে ঘিরেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সফরসূচি সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এসব কর্মসূচি আপাতত বাদ পড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৩ সেপ্টেম্বরের নৈশভোজেও থাকছে বিশেষ গুরুত্ব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।