এহসানুল ইসলাম চৌধুরী শামীম
প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা ও ছোটাছুটির জীবন থেকে কিছুটা অবসর নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে গত ২৮ জুলাই ২০২৬ যুক্তরাজ্যের নর্থাম্পটন থেকে যাত্রা করি ইংল্যান্ডের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পিক ডিস্ট্রিক্টে।
দুপুরে সেখানে পৌঁছে সবুজ পাহাড়, বিস্তীর্ণ উপত্যকা, আঁকাবাঁকা পথ ও মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশে সারাদিন ঘুরে বেড়াই। প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য যেন মনকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলে। দিন শেষে রাতে পৌঁছাই ম্যানচেস্টারে।
ম্যানচেস্টারে পৌঁছে পরিচিত অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সবারই ব্যস্ততা থাকায় কারও সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। ইচ্ছা ছিল রাতে কিছু সময় আড্ডা ও গল্পে কাটানোর, কিন্তু ব্যস্ত জীবনের বাস্তবতায় সেই সুযোগ আর হয়ে ওঠেনি।
এরই মধ্যে রাত প্রায় ১টার দিকে ফোন আসে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডা. নেছার আহমদ চৌধুরীর কাছ থেকে। তিনি আমার দীর্ঘদিনের প্রিয় বন্ধু সাজনা চৌধুরীর স্বামী। ফোন করে তিনি জানান, পরদিন ২৯ জুলাই বিকেলে সবাই মিলে ব্ল্যাকপুলে ঘুরতে যাবেন। তিনি আমাকে সকাল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে তাদের বাসায় পৌঁছাতে অনুরোধ করেন।
কিন্তু পিক ডিস্ট্রিক্ট থেকে ফিরতে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এদিকে সাজনা কর্মস্থল থেকে ফিরে আমাদের জন্য নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। নিজে না খেয়ে তিনি আমাদের অপেক্ষায় ছিলেন। পরে ডা. নেছার আবার ফোন করে বলেন, সময় নষ্ট না করে সরাসরি ব্ল্যাকপুলে চলে যেতে, কারণ সবাই অপেক্ষা করছেন।
তাই তাদের বাসায় না গিয়ে আমরা সরাসরি ব্ল্যাকপুলে পৌঁছে যাই। সেখানে সমুদ্রের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করি, দীর্ঘ সময় গল্প-আড্ডায় মেতে থাকি। পরে সবাই মিলে সাজনা ও ডা. নেছারের বাসায় যাই।
দীর্ঘদিন পর সাজনা ও ডা. নেছারের সঙ্গে দেখা হওয়ায় যেন পুরোনো দিনের স্মৃতিগুলো আবার ফিরে আসে। কুশল বিনিময়, স্মৃতিচারণ, প্রাণখোলা হাসি আর গল্পে পুরো রাত কখন যে কেটে গেল, তা টেরই পাইনি। তাদের বাড়ির সবুজে ঘেরা খোলা বাগানে বসে পারিবারিক পরিবেশে জমে ওঠে প্রাণবন্ত আড্ডা।
আয়োজনে ছিল নানা ধরনের সুস্বাদু খাবারের সমাহার। প্রতিটি আয়োজনে ছিল আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও অতিথিপরায়ণতার অনন্য প্রকাশ। গল্প, হাসি আর আনন্দে সময়টি হয়ে ওঠে আরও বেশি প্রাণবন্ত ও স্মরণীয়। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ২টা, অথচ মনে হচ্ছিল সময় যেন মুহূর্তের মধ্যেই পেরিয়ে গেছে।
ফেরার আগে তাদের সুন্দর বাগানটিও ঘুরে দেখার সুযোগ হয়। নানা ধরনের সতেজ গাছপালা, সবুজ পাতার সমারোহ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আমাদের মুগ্ধ করে।
সব মিলিয়ে এটি ছিল বন্ধুত্ব, আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও পারিবারিক বন্ধনের এক হৃদয়স্পর্শী আয়োজন। ডা. নেছার আহমদ চৌধুরী অত্যন্ত হাসিখুশি, আন্তরিক ও অমায়িক একজন মানুষ। একইভাবে সাজনার আন্তরিক আপ্যায়ন ও অতিথিপরায়ণতা আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
ব্যস্ত জীবনের মাঝেও এমন কিছু মুহূর্ত মানুষকে নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেয়। পিক ডিস্ট্রিক্টের অপরূপ প্রকৃতি আর প্রিয় বন্ধুদের উষ্ণ আতিথেয়তায় কাটানো এই দুটি দিন নিঃসন্দেহে স্মৃতির পাতায় চিরদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
পরিশেষে, এমন আন্তরিক ও হৃদয়ছোঁয়া আয়োজনের জন্য সাজনা চৌধুরী ও ডা. নেছার আহমদ চৌধুরীর প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।