স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রিকলেন নিউজ, ঢাকাঃ
গত দুই বছরে বাংলাদেশে মূলত গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্প পুলিশ ও তৈরি পোশাক খাতের সংগঠনগুলোর (বিজিএমইএ, বিটিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর বড় একটি অংশই পোশাক ও বস্ত্র খাতের।
সংকটের মূল কারণসমূহ:
জ্বালানি সংকট: নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব এবং গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
আন্তর্জাতিক প্রভাব ও ব্যবস্থাপনা: বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী চাহিদা এবং কিছু কারখানার দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব:
ব্যাপক কর্মচ্যুতি: কারখানা বন্ধের ফলে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক বেকার হয়েছেন। শ্রমিক নেতাদের দাবি অনুযায়ী, কেবল তৈরি পোশাক খাতেই প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন।
রপ্তানি ও প্রবৃদ্ধি হ্রাস: রপ্তানি আদেশ (ইউডি) উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি মাত্র ২.৮৬ শতাংশে নেমে এসেছে এবং সার্বিক রপ্তানি আয়ও কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা:
বর্তমানে আংশিক সচল থাকা আরও কয়েকশ কারখানা যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থনীতিবিদ এবং সিপিডি-এর মতে, এটি দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য এক বিশাল অশনিসংকেত। বিজিএমইএ সভাপতির মতে, শুধু আর্থিক প্রণোদনা বা ঋণ দিয়ে শিল্প বাঁচানো সম্ভব নয়; বরং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাটাই এখন সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ।
সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জ্বালানি খাতের এই সংকট দ্রুত সমাধান করা না গেলে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত এবং সামষ্টিক অর্থনীতি আরও গভীর বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে।