Brick Lane News

বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ: যুক্তরাজ্যে আসছে কঠোর অভিবাসন বিল

বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ: যুক্তরাজ্যে আসছে কঠোর অভিবাসন বিল

স্থায়ী বসবাসের অনুমতির অপেক্ষায় থাকা লাখো অভিবাসী এবং আশ্রয়প্রার্থীরা পড়তে যাচ্ছেন চরম অনিশ্চয়তায়; সংসদে উঠছে বিতর্কিত নতুন বিল।

ব্রিকলেন নিউজ ডেস্ক:

দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত সংবাদ সুত্রে জানা গেছে,   যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ লাখো অভিবাসীর জন্য চরম উদ্বেগজনক খবর নিয়ে আসছে ব্রিটিশ সরকার। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি নতুন ও কঠোর ‘অভিবাসন ও আশ্রয় বিল’ (Immigration and Asylum Bill) উত্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন এই নীতি কার্যকর হলে দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের (Indefinite Leave to Remain – ILR) অপেক্ষায় থাকা বিপুল সংখ্যক বৈধ অভিবাসী এবং অসংখ্য আশ্রয়প্রার্থী গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন।

স্থায়ী বসবাসের (PR) যোগ্যতায় কড়া শর্ত যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের উদ্যোগে আনা এই নতুন বিলে স্থায়ী বসবাসের নিয়মে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হতে আগ্রহী অভিবাসীদের অবশ্যই কর্মসংস্থানের প্রমাণ দিতে হবে এবং তারা কোনো ধরনের সরকারি আর্থিক সুবিধা বা ‘বেনিফিট’ (যেমন বেকার ভাতা) গ্রহণ করতে পারবেন না। এছাড়া, সমাজে অবদান রাখার প্রমাণস্বরূপ স্বেচ্ছাসেবক বা কমিউনিটি সেবামূলক কাজে যুক্ত থাকার শর্তও যুক্ত হতে পারে। সরকারের দাবি, অভিবাসীদের বেনিফিট-নির্ভরতা কমিয়ে তাদের ব্রিটিশ অর্থনীতিতে আরও বেশি ভূমিকা রাখার জন্যই এই পদক্ষেপ।

মানবাধিকার আইনের প্রয়োগ সীমিতকরণ ও জোরপূর্বক বহিষ্কার প্রস্তাবিত আইনে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদের (ব্যক্তির পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনের অধিকার) প্রয়োগ নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে এই অধিকারকে ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসীরা জোরপূর্বক বহিষ্কার (Deportation) প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে। নতুন বিল পাস হলে, যাদের আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে। এছাড়া বর্তমানের স্বাধীন আশ্রয় আপিল ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থার পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনেই নতুন আপিল সংস্থা গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিতর্কিত বয়স যাচাই প্রযুক্তি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ এই বিলে আশ্রয়প্রার্থীদের বয়স নির্ধারণের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার করা হতে পারে। এ নিয়ে ‘রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্র্যান্ট চিলড্রেনস কনসোর্টিয়াম’ এবং ‘সেফ প্যাসেজ ইন্টারন্যাশনাল’-এর মতো শিশু ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই প্রযুক্তির কারণে অনেক শিশুকে ভুলভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি হবে। পাশপাশি, আধুনিক দাসত্বের শিকার প্রকৃত ভুক্তভোগীরাও আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সম্ভাব্য প্রভাব যুক্তরাজ্যে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি স্বাস্থ্য খাত (Health and Care Sector), রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য পেশায় স্কিলড ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করছেন। অনেকেই ৫ বা ১০ বছরের রুটে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির অপেক্ষায় আছেন। নতুন করে শর্তারোপ করা হলে, বিশেষ করে যারা குறைந்த আয়ের বা বিভিন্ন কারণে সরকারি ভাতার ওপর আংশিক নির্ভরশীল, তাদের স্থায়ী হওয়ার পথ রুদ্ধ হতে পারে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আগামী পদক্ষেপ আগামী মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এই বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপনের কথা রয়েছে। তবে লেবার পার্টির ভেতরের একটি অংশ, লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও মানবাধিকার কর্মীদের তোপের মুখে পড়তে পারে এই প্রস্তাবনা। যুক্তরাজ্যে যখন আবাসন সংকট ও জনসেবার ওপর চাপ বাড়ছে, তখন সরকার এই বিলটিকে ‘সময়োপযোগী’ বলে দাবি করলেও, বিশ্লেষকদের মতে এটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ইতিহাসে একটি বড় ও কঠোর কাঠামোগত পরিবর্তন হতে যাচ্ছে।