বৈধভাবে আসা কেয়ার ওয়ার্কারদের সন্তানদের যুক্তরাজ্য ছাড়ার নোটিশ পাঠিয়েছে হোম অফিস; বাবা-মা থাকার অনুমতি পেলেও শিশুদের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে কঠোর সিদ্ধান্ত।
যুক্তরাজ্য ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের হোম অফিস পাঁচ বছরের মতো কম বয়সী শিশুদের কাছেও চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে যে তাদের অবিলম্বে যুক্তরাজ্য ছাড়তে হবে। এই শিশুরা মূলত কেয়ার ওয়ার্কার (সেবামূলক কর্মী) ভিসায় থাকা ব্যক্তিদের সন্তান, যারা অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের আগে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনে দেশটিতে এসেছিল। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বাবা-মায়ের যুক্তরাজ্যে থাকার বৈধ অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তাদের সন্তানদের দেশ ছাড়ার এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক খাতের কর্মীদের ওপর সরকারের সাম্প্রতিক কড়াকড়ির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আইনি জটিলতা ও পরিবারের ওপর মানসিক চাপ
যুক্তরাজ্যের নতুন অভিবাসন নীতি অনুযায়ী, কেয়ার ওয়ার্কারদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের (যেমন সন্তান বা জীবনসঙ্গী) সঙ্গে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিল।
ভুক্তভোগী পরিবার এবং অভিবাসন আইনজীবীদের মতে:
-
পরিবার বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি: বাবা-মা যুক্তরাজ্যে কাজ করার আইনি অধিকার রাখলেও, শিশুদের ভিসা নবায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। এর ফলে পরিবারগুলো এক চরম অনিশ্চয়তা ও বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে।
-
মানবিক সংকট: মাত্র পাঁচ বা ছয় বছর বয়সী একটি শিশুকে আইনি ভাষায় দেশ ছাড়ার নোটিশ পাঠানোকে চরম অমানবিক ও সংবেদনশীলতার পরিপন্থী বলে তীব্র সমালোচনা করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, হোম অফিসের এই কঠোর অবস্থান যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ অনেক দক্ষ কর্মী তাঁদের সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
সামাজিক সুরক্ষাকর্মী এবং আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের দাবি, শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা করা যেকোনো দেশের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব, যা এই ক্ষেত্রে চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।
বৈধ উপায়ে আসা কর্মীদের সন্তানদের এভাবে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতির এক চরম ও বিতর্কিত রূপ প্রকাশ করে। এটি কেবল ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্যই একটি মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ডেও এক বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। আগামী দিনগুলোতে এই আইনি ও মানবিক লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সুত্র- দ্যা গার্ডিয়ান