Brick Lane News

লন্ডনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বৈশাখ উদযাপন

লন্ডনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বৈশাখ উদযাপন

সুয়েজ মিয়া –

বৈশাখ পেরিয়ে জ্যৈষ্ঠ এলেও প্রবাসী বাঙালির হৃদয়ে নতুন বছরের আবহ এখনো অমলিন। সেই আবহেই গত ১৬ মে পূর্ব লন্ডনের নিউবেরি পার্কে ফোর্ড স্পোর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল ক্লাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান করল।
কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজনটি রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্যধর্মী পরিবেশনার সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির বহুমাত্রিক প্রকাশ হিসেবে দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই নতুন প্রজন্মের পরিবেশনায় মঞ্চ মুখর হয়ে ওঠে। শিশু ও তরুণ শিল্পীদের অংশগ্রহণ যেন এ কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়—সংস্কৃতি কেবল সংরক্ষণের বিষয় নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান এক উত্তরাধিকার।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গীতিনাট্য “আনন্দলোকে, মঙ্গলালোকে”। সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও বর্ণনার সমন্বয়ে নির্মিত এই পরিবেশনায় উৎসবের প্রচলিত ধারণার পাশাপাশি মানুষের ভেতরের আনন্দ, মঙ্গল ও সামাজিক সংযোগের প্রশ্নও উঠে আসে। দর্শকদের কাছে এটি ছিল এক ভিন্নধর্মী সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। আয়োজনে উপস্থিত অতিথি ও সদস্যরা বলেন, দীর্ঘদিন পর এমন একটি অনুষ্ঠান কমিউনিটির মানুষকে একত্র হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি স্বপন নন্দী, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল রায় এবং কোষাধ্যক্ষ মিলটন সাহা। তারা আগত অতিথি, সিনিয়র সদস্য ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচ এবং অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিকল্পনা ও সমন্বয় করেন সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সঞ্জীব সাহা। সংগীত নির্দেশনায় ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী গৌরী চৌধুরী এবং নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন অদিতি রায়।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের পরিচিত শিল্পী সঞ্জয় দে আধুনিক বাংলা গান পরিবেশন করেন। তাঁর গানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে নব্বই দশকের বাংলা গানের নস্টালজিক আবহ ফিরে আসে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সংগঠনের সদস্যদের ঘরে তৈরি পিঠা ও নৈশভোজ পরিবেশন করা হয়।