২৩ ঘণ্টা পর মুক্ত হলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবরুদ্ধ উপাচার্য; কাল দুপুরে বৈঠক

আবাসন ভাতায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে প্রায় ২৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাসে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করলে ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে আবাসন ভাতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি আলোচনা করতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে প্রশাসন, সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষক সমিতি, ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

আবাসন ভাতার দাবিতে জবির ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের (২০তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা রোববার দুপুরে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসন সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হওয়া সত্ত্বেও ২০তম ব্যাচকে সম্পূরক আবাসন ভাতার প্রথম কিস্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তালিকায় ২০১৯–২০ থেকে ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও নতুন ব্যাচকে পরে বিবেচনার কথা জানানো হয়, যা শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের কারণ হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেই তাঁরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হন।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, দীর্ঘ সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ থাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন। মঙ্গলবারের বৈঠকে ২০তম ব্যাচের আবাসন ভাতা অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। প্রক্টর তাজাম্মুল হক এক ফেসবুক পোস্টে জানান, পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ করাকে অযৌক্তিক মনে করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এতে শিক্ষার্থীদের সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও মঙ্গলবারের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছে উভয় পক্ষ।

Related Posts

সর্বশেষ খবর