
শরীয়তপুর সদরের শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাষানী খানের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা তাঁর বাড়িসহ সমর্থকদের মোট নয়টি বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং তিনটি বসতঘরে আগুন দেয়। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার চরগয়ঘর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ভাষানী খান সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেন। আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় এই হামলার ঘটনা ঘটায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাষানী খান ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরে তিনি এলাকায় ফিরে আসেন এবং গত ১৭ জানুয়ারি শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলামের সভায় পাঁচ শতাধিক সমর্থক নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার রাতে প্রথমে ভাষানী খানের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এরপর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পরে হামলাকারীরা দলবদ্ধভাবে তাঁর সমর্থকদের আরও আটটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং তিনটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঘটনার সময় ভাষানী খান বাড়িতে ছিলেন না। স্বজনদের জানান, তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। ভাষানী খানের শাশুড়ি রাশিদা বেগম বলেন, ককটেলের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে ১৫–২০ জন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়।
ভাষানীর এক সমর্থক ইদ্রিস খান, যার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে, অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ তাদের হুমকি দিয়ে আসছিল।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শরীয়তপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং হামলাকারীরা যে দলেরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক গোলাম রাসুল জানান, হামলার ঘটনায় তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
