সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির সরাসরি প্রভাবে দেশে ইতোমধ্যে ১২ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ছয় মাসে আরও ১২ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার রাজধানীতে এলডিসি উত্তরণ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তারা।
সেমিনারে বক্তারা জানান, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। এই অর্জনের ফলে একদিকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও মানব উন্নয়নের স্বীকৃতি মিলবে। অন্যদিকে শুল্কমুক্ত সুবিধা কমে যাওয়া, রেয়াতি বিদেশি ঋণ পাওয়া কঠিন হওয়া এবং ব্যাংকিং খাতে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়া মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
বক্তারা বলেন, স্বল্প সুদে বিদেশি অর্থায়নের সুযোগ কমে গেলে দেশের ব্যাংকিং খাত বড় সংকটে পড়বে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আর্থিক খাতকে এখনই প্রস্তুত করা জরুরি।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ভয়াবহভাবে বেড়েছে। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে ব্যাংকগুলো টিকে থাকাই কঠিন হবে। এজন্য কঠোরভাবে নিয়মনীতির বাস্তবায়ন প্রয়োজন।”
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ মুদ্রানীতির কঠোরতার সমালোচনা করে বলেন, “মনিটারি পলিসি টাইট করার ফলেই ১২ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ছয় মাসে আরও ১২ লাখ মানুষ বেকার হবে।”
এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, সুদের হার ও মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে আগে খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। তিনি বলেন, “ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই।”
গভর্নর আরও বলেন, “এনপিএ কখনোই কম ছিল না, কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছে মাত্র। বাস্তবে এটি সবসময়ই বেশি ছিল। এনপিএ বাস্তব অর্থে কমানো ছাড়া সুদের হার কমানো সম্ভব নয়।”
তিনি অতীতের ব্যাংক খাত লুটপাট ও অর্থপাচারের ঘটনায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নীরবতাকেও কড়া সমালোচনা করেন।




