টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওয়াশরুমে গোপন স্পাই ক্যামেরা স্থাপনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবিরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশ রায়হান কবিরকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে সদর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহবুব খান পাঁচ দিনের রিমান্ড অনুমোদন দেন।
আদালতে নেওয়ার সময় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, সোমবার রাতে মেডিকেল কলেজের পরিচালক মো. আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে রায়হান কবিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের সার্জারি ইউনিট-১–এর ৯০৭ নম্বর কক্ষে দায়িত্ব পালনকালে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক সংশ্লিষ্ট ওয়াশরুমে একটি গোপন স্পাই কলম ক্যামেরা দেখতে পান। ক্যামেরাটি হাতে নিয়ে বাইরে এলে ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির সেটি ফেরত চাইলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ সময় রায়হান কবির ক্যামেরাটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং ওই নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক হাতে আঘাত পান। পরে তিনি পাশের ইউনিটে গিয়ে আশ্রয় নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওয়াশরুম ব্যবহারের আগে রায়হান কবির প্রায়ই নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের থামিয়ে নিজে আগে ভেতরে ঢুকতেন। বিষয়টি নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ ও উদ্বেগ ছিল।
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রায়হান কবিরের ইন্টার্নশিপ সাময়িকভাবে স্থগিত করে এবং অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু হানিফকে কমিটির প্রধান করা হয়।
সোমবার তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিতে রায়হান কবির মেডিকেল কলেজে এলে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য উদ্ধারে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।



