ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তুলিকা দাহ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসু।
বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান ডাকসুকে ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর এই বক্তব্যকে অশ্লীল ও ঘৃণ্য আখ্যা দিয়ে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের নেতা প্রকাশ্যে ডাকসু ও নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে পারেন এটা লজ্জাজনক। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে নারীদের সংগ্রাম ও অর্জনকে এভাবে হেয় করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি শামীম আহসানের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদের জিএস সাদমান আব্দুল্লাহ বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার। এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য আমরা বরদাশত করব না।”
এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক বিবৃতিতে শামীম আহসানের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তাঁর অশ্লীল ও অর্বাচীন মন্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা ও সুনামকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডাকসুও পৃথক বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানায়। ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুকে ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ বলা ঘৃণ্য ও মানহানিকর।” তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগতদের পরিচালিত কিছু অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে ডাকসু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে সে অজুহাতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে শামীম আহসানের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মানহানির মামলা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডাকসু।



