এবার বামপন্থিদের নিয়ে ঢাবির আলোচিত শিক্ষক মোনামির বিস্ফোরক মন্তব্য

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নারী বিদ্বেষী বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কয়েকটি ছবি শেয়ার করে তিনি বলেন, ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা হলেও নারী রাজনীতিবিদদের বিষয়ে অশ্লীল ও অবমাননাকর মন্তব্যের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে।

মোনামির মতে, নির্বাচন সামনে রেখে এসব দল নিয়মিত ‘নারী কার্ড’ ব্যবহার করে নারী অধিকার ও নারীবান্ধব রাজনীতির ছবি তুলে ধরলেও বাস্তবে তাদের ভেতর থেকেই নারীদের প্রতি বিদ্বেষ ও হয়রানি ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কোনো ঐক্যবদ্ধ ও নীতিগত প্রতিবাদ দেখা যায় না। রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে, নীতিগত অবস্থান থেকে নয়।

ঢাবি শিক্ষক অভিযোগ করেন, নিজ দলের ভেতর থেকে নারী বিদ্বেষী বক্তব্য এলে অনেক নেতা-কর্মী নীরব থাকেন, এমনকি কখনো কখনো সম্মিলিত আক্রমণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এতে নারী রাজনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্ট নারীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বঘোষিত মধ্যপন্থি ও বামপন্থি দলগুলো নিজেদের ‘নারী-নিরাপদ’ ও ‘নারী-বান্ধব’ হিসেবে প্রচার করলেও নারীদের পোশাক, ব্যক্তিগত জীবন কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে হেয় করার ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা বা নীরব সমর্থন দেখা যায়।

মোনামির অভিযোগ, ডানপন্থি বা ইসলামপন্থিদের কাছ থেকে নারী বিদ্বেষী মন্তব্য এলে দ্রুত প্রতিবাদ হলেও একই ধরনের বক্তব্য যদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয় এমন কারও কাছ থেকে আসে, তবে সচেতন মহলের একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে রাখে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, নারী বিদ্বেষ কি কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রে অসহনীয়? নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি যদি সত্যিই আন্তরিক হয়, তবে তা সব দলের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।

পোস্টের শেষে তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলের নারীদের প্রতি হয়রানি ও অবমাননাকর আচরণের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নারীবান্ধব রাজনীতি ও নারী ক্ষমতায়নের দাবি কেবল ফাঁকা স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

Related Posts

সর্বশেষ খবর