Brick Lane News

যুক্তরাজ্যে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত পাকিস্তানি আশ্রয়প্রার্থী শেরাজ মালিক

অনলাইন ডেস্ক- 
যুক্তরাজ্যের নটিংহামশায়ায়ের  একটি পার্কে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় শেরাজ মালিক (২৮) নামের এক আশ্রয়প্রার্থীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন যুক্তরাজ্যের আদালত।
বার্মিংহাম ক্রাউন কোর্টে অনুষ্ঠিত বিচার শেষে জুরি সর্বসম্মতভাবে শেরাজ মালিককে দুটি ধর্ষণের অভিযোগে দোষী ঘোষণা করেন। তবে তৃতীয় একটি অভিযোগে তিনি খালাস পান।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে নটিংহামশায়ারের সাটন-ইন-অ্যাশফিল্ড এলাকার সাটন লন পার্কে। ভুক্তভোগী তরুণী সেখানে এক বন্ধুর সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। পরে তিনি শেরাজ মালিক ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন অচেনা ব্যক্তির সংস্পর্শে আসেন।
প্রসিকিউশন পক্ষ জানায়, তরুণীর বন্ধু অন্য এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় শেরাজ মালিকদের অনুরোধ করেন, যেন তারা ওই তরুণীর দিকে খেয়াল রাখে। এরপর মালিকের এক সহযোগী তাকে পার্কের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ওই ব্যক্তি এখনও শনাক্ত হয়নি।
এরপর শেরাজ মালিক নিজেও ওই তরুণীকে আরেকটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে আঘাত করে ধর্ষণ করেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। জুরি শুনেছেন, ধর্ষণের সময় তরুণী ছিলেন মাতাল ও অত্যন্ত অসহায় অবস্থায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী তরুণী এক বন্ধুকে স্ন্যাপচ্যাটে বার্তা পাঠিয়ে সাহায্য চান এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথা জানান।
আসামিপক্ষ দাবি করে, যৌন সম্পর্কটি ছিল সম্মতিতে। তবে জুরি শেরাজ মালিকের বক্তব্যকে অবিশ্বাস্য বলে মনে করেন। বিচার চলাকালে আরও জানা যায়, ঘটনার পর তিনি নটিংহামশায়ার এলাকা ছাড়তে ভিন্ন নামে কোচের টিকিট বুক করেছিলেন।
রায় ঘোষণার পর আদালত জানায়, শেরাজ মালিক একজন আশ্রয়প্রার্থী। তিনি পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন এবং যুক্তরাজ্যে আসার আগে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্সে বসবাস করেছেন। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার অভিবাসন-সংক্রান্ত পরিচয় প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল।
বিচারক জানান, শেরাজ মালিকের বিপজ্জনকতার মাত্রা যাচাইয়ে একটি প্রি-সেন্টেন্স রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি মামলাটি আবার আদালতে উঠবে, সেদিন সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এর আগ পর্যন্ত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নটিংহামশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর পলাতক সন্দেহভাজনকে ধরতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

শেরাজ মালিক একজন  আদালতের কার্যক্রম একজন পশতু দোভাষীর মাধ্যমে অনুসরণ করেন। জানা গেছে যে  সে যুক্তরাজ্যে আসার আগে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্সে ছিল।

Related Posts

Social Media

সর্বশেষ খবর