Brick Lane News

কমছে বিনিয়োগ ,ধুঁকছে আশিক চৌধুরীর চমক

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনায় প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি তো হয়নি, বরং নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আরও কমেছে। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নেতৃত্বে পরিবর্তন এনে অন্তর্বর্তী সরকার সিঙ্গাপুরপ্রবাসী ব্যাংকার আশিক চৌধুরীকে দায়িত্ব দিলেও গত ১৬ মাসে বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে নিট এফডিআই বেড়ে ১৬৯ কোটি ডলারে দাঁড়ালেও নতুন বিনিয়োগ বা ইকুইটি ক্যাপিটাল নেমে এসেছে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ওই অর্থবছরে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ৫৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ কম। করোনাকালেও নতুন বিনিয়োগ এর চেয়ে বেশি ছিল।

একই সময়ে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগের গতি স্পষ্টভাবে কমেছে। জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ নেমে এসেছে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে ১৯ শতাংশ। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ৭ শতাংশের নিচে রয়েছে। উচ্চ সুদহার, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়ায় অনেক ছোট ও মাঝারি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, কর্মহীন হয়েছেন লাখো মানুষ।

বিডার নিবন্ধন তথ্যেও বিনিয়োগের স্থবিরতা স্পষ্ট। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন হয়েছে ৬৬ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৮ শতাংশ কম। বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন কমেছে ৫৬ শতাংশ। দেশি বিনিয়োগ প্রস্তাবও অর্ধেকের বেশি কমে গেছে।

আশিক চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ আকর্ষণে সফর ও ঢাকায় বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করলেও তার দৃশ্যমান প্রভাব পাওয়া যায়নি। চার দিনের বিনিয়োগ সম্মেলনে এসেছে মাত্র ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রস্তাব। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে আসা এফডিআই আগের বছরের তুলনায় কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো থেকেই গেছে। গ্যাস–বিদ্যুতের সরবরাহ অনিশ্চিত, ব্যাংক ঋণের সুদহার ১৪–১৫ শতাংশে পৌঁছেছে, রাজস্বনীতি বিনিয়োগবান্ধব নয় এবং বন্দরে ব্যয় ও সময় বেড়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে পারেনি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এফডিআই পেয়েছে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার, যেখানে ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার প্রাপ্তি ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। পাকিস্তানও বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গেছে।

দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে আশিক চৌধুরী বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও দেড় বছরে বড় কোনো কাঠামোগত সংস্কার হয়নি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের মতে, সাহসী সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ ফেরানো কঠিন হবে।

Related Posts

Social Media

সর্বশেষ খবর