Brick Lane News

মহাজীবনের কবির আজ মৃত্যুবার্ষিকী

ব্রিকলেন নিউজঃ

হে মহাজীবন- 

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝংকার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো।
প্রয়ােজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—
কবিতা তােমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল‍্সানাে রুটি।।

 

আজ ১৩ মে সেই মহাজীবনের  কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।   ১৯৪৭ সালের এই দিনে তিনি কলকাতার যাদবপুরে মৃত্যুবরণ করেন। যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ২১ বছর বয়সে মারা যান সুকান্ত ভট্টাচার্য।

ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, অভিযান, হরতাল কবির উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। কবির প্রতিটি কবিতায় অনাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে।

ভারতে জন্মগ্রহণ করলেও কবির পিতৃপুরুষের নিবাস গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে। কবির বাবা নিবারণ ভট্টাচার্য কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে বইয়ের ব্যবসা করতেন। ব্যবসার সুবাদে কবির পরিবারকে কলকাতাতেই থাকতে হতো।দীর্ঘদিন কবির পরিবার কলকাতায় অবস্থান করার কারণে তার পূর্বপুরুষের ভিটা বেদখল হয়ে যায়। পরে ২০০৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কবির বাড়ি দখলমুক্ত হয়।

কবির মৃত্যুদিনে  কবিতায় কবিকে শ্রাদ্ধাঞ্জলি- 

ছাড়পত্র – সুকান্ত ভট্টাচার্য 

যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুমঃ
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,
নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে।
খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।
সে ভাষা বোঝে না কেউ,
কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।
আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা।
পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের
পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ঠ শিশুর
অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে।
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
অবশেষে সব কাজ সেরে
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাব আশীর্বাদ,
তারপর হব ইতিহাস।।

 

 

 

 

Related Posts

Social Media

সর্বশেষ খবর