ডলারের মূল্য ওঠানামা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই বিশ্ববাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পণ্যবাজারে স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বনিম্নে নেমেছে। একই সঙ্গে তেল, রূপা ও শিল্প ধাতুর দামেও বড় ধস নেমেছে, খবর রয়টার্সের।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশকে মনোনীত করার খবরে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত সরে যাচ্ছেন। এর ফলে মূল্যবান ধাতুর ওপর বিক্রির চাপ বেড়েছে এবং টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দাম কমেছে।
সোমবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে দুই সপ্তাহের সর্বনিম্নে নেমে আসে। একই সময়ে রূপার দাম কমেছে ১৩ শতাংশের বেশি। অথচ মাত্র গত সপ্তাহেই এই দুটি ধাতু রেকর্ড দামে লেনদেন হচ্ছিল।
এদিন তেলের দামও প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে, যা সাম্প্রতিক কয়েক মাসের উচ্চ দামের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পতন। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে তামার দাম কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ।
কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার পণ্য কৌশলজ্ঞ ভিভেক ধর বলেন, “স্বর্ণ ও রূপার সঙ্গে মার্কিন শেয়ারবাজারে একযোগে বিক্রি প্রমাণ করে যে বিনিয়োগকারীরা কেভিন ওয়ারশকে কড়াকড়ি মুদ্রানীতির পক্ষপাতী হিসেবে দেখছেন।”
তিনি আরও বলেন, শক্তিশালী মার্কিন ডলারের চাপ স্বর্ণসহ তেল ও শিল্প ধাতুর বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে ওয়ারশ ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেলের সাবেক গভর্নর কেভিন ওয়ারশকে বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মনোনীত করেন। এই ঘোষণার পরপরই শেয়ার ও পণ্যবাজারে বিক্রি বাড়ে এবং ডলারের মান শক্তিশালী হয়।





