Brick Lane News

ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর যৌন নির্যাতন; ৬৮ নারী অধিকার কর্মীর বিবৃতি

ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ ও সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের ৬৮ জন নারী অধিকার কর্মী।

রোববার লেখক ও মানবাধিকার কর্মী রেহনুমা আহমেদ এবং সাংবাদিক সায়দিয়া গুলরুখের পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ), ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস (আইপিএস) এবং বিভিন্ন কারাগারে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ-নিযুক্ত তদন্ত কমিশনসহ ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বেটসেলেম, দ্য প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এবং ফিজিশিয়ান্স ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে জোরপূর্বক উলঙ্গ করে রাখা, যৌন অপদস্থকরণ, ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, যৌনাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক, ওয়াটারবোর্ডিং, কুকুর দিয়ে আক্রমণ এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এসেছে।

এ ছাড়া মাতৃসদন ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, প্রজনন ও ঋতুস্রাব-সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা অস্বীকার এবং অনাহারজনিত গর্ভপাতের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

একটি ঘটনায় উত্তর গাজার একটি ইসরায়েলি চেকপয়েন্টে গ্রেপ্তার হওয়া ৪২ বছর বয়সী এক নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ, মারধর ও বৈদ্যুতিক শকের শিকার হওয়ার অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়।

এতসব অভিযোগের পরও পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী নারীবাদী সংগঠন ও ব্যক্তিত্বদের নীরবতার কঠোর সমালোচনা করেন বিবৃতিদাতারা। তাদের মতে, ইসরায়েল রাষ্ট্র-সমর্থিত যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান না নেওয়া পশ্চিমা নারীবাদের বর্ণবাদী রাজনীতিকে উন্মোচন করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসরায়েলি কারাগারে সংঘটিত যৌন নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

বিবৃতিতে দেশের ও প্রবাসের শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, গবেষক, আইনজীবী, শিল্পী ও নারী অধিকার কর্মীসহ মোট ৬৮ জন স্বাক্ষর করেন।

Related Posts

Social Media

সর্বশেষ খবর