Brick Lane News

ছেলের খোঁজে জিডি করতে থানায় এসে লাশ উদ্ধারের খবরে মূর্ছা যাচ্ছেন মা

ছেলেটা হারিয়ে গেছে, এই কথাটুকু বলতে গিয়েই গলা ধরে আসছিল মায়ের। জয়পুরহাট সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে এসে জিডির কাগজে ছেলের নাম লেখার আগেই ভেঙে পড়ে তাঁর পৃথিবী। থানায় বসেই তিনি জানতে পারেন, তাঁর কিশোর ছেলে আর নেই। শহরের একটি শর্ষেখেতে পড়ে আছে তাঁর নিথর দেহ।

রোববার দুপুরে জয়পুরহাট শহরের পূর্ব দেবীপুর মহল্লার একটি শর্ষেখেত থেকে পুলিশ ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত কিশোরের নাম তাইফ হোসেন (১৬)। তিনি নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার কালুপাড়া গ্রামের মৃত তুহিন হোসেনের ছেলে এবং জয়পুরহাটের জগদুল আদিবাসী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শ্বাস রোধ করে কিশোরটিকে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাইফ হোসেন তার মা মুক্তা বানুর সঙ্গে চিকিৎসার প্রয়োজনে ঢাকায় গিয়েছিলেন। শনিবার রাত আটটার দিকে মা–ছেলে জয়পুরহাট শহরে পৌঁছান। সেখান থেকে ইজিবাইকে চড়ে তারা নিজ বাড়ি ধামইরহাট উপজেলার কালুপাড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। ইজিবাইকে ওঠার কয়েক মিনিট পর জয়পুরহাট শহরের রেলগেট এলাকায় তাইফ নেমে যান। এরপর আর তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ছেলেকে না পেয়ে রোববার বেলা ১১টার দিকে মুক্তা বানু স্বজনদের নিয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় জিডি করতে যান। জিডির প্রক্রিয়া চলাকালে পুলিশ খবর পায় পূর্ব দেবীপুর এলাকায় একটি শর্ষেখেতে মরদেহ পড়ে আছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনেরা মরদেহটি তাইফ হোসেনের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, শনিবার রাতে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার সময় জয়পুরহাট রেলগেট এলাকায় তাইফ স্বেচ্ছায় ইজিবাইক থেকে নেমে যান। রোববার বেলা ১১টার দিকে পূর্ব দেবীপুর এলাকার একটি শর্ষেখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। গলায় ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। কোমরের বেল্ট–জাতীয় কিছু দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে।

Related Posts

Social Media

সর্বশেষ খবর