সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এপস্টিনের নথিতে ড.মোহাম্মদ ইউনূসের নাম পাওয়া গিয়েছে ১৩ বার। যদিও এই নথিগুলোতে ইউনূসের এপস্টিনের সাথে অপকর্মের কোন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
তবে কিছু ব্যাপারে তথ্যপ্রমাণ দেওয়া লাগেনা, তথ্যপ্রমাণ পেতে আপনার এপস্টিনের অন্ধকার জগত থেকে ঘুরে আসতে হবে। এপস্টিনের গার্লফ্রেন্ড ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল যে কিনা ২০ বছরের অধিক এপস্টিনের সকল অপকর্মের সঙ্গী ছিল। এপস্টিনের দ্বীপে অল্প বয়সী কিশোরীদের পাচারে মুখ্য ভূমিকা পালন করতেন ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল।
২০১৯ সালে এক সাক্ষাৎকারে এপস্টিনের দ্বিপের একজন ভিক্টিম বলেন “Maxwell was the mastermind to make all this happen for Epstein,”। এপস্টিন আত্মহত্যার পরে ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েলের অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় তাকে মার্কিন আদালত ২০ বছরের সাজা দেয় ,এখন পর্যন্ত সে জেলেই আছে।
ঘিসলেনের নয় ভাইবোনের একজন ইসাবেল ম্যাক্সওয়েল, সে আবার ফ্রান্সের বিখ্যাত উদ্যোক্তা, তিনি আবার ইউনুসের ঘনিষ্ঠ। তিনিই মূলত ইউনূসের ফ্রেন্স কাকেশনের মূল যোগসূত্র! ফাঁস হওয়া এপিস্টিনের নথিতে দেখা যায় ইসাবেল ম্যাক্সওয়েল ও তার স্বামী আল সেকেল একজন কার্টুনিস্টের সাথে ইউনুসের পরিচয় করিয়ে দেন, পরবর্তীতে Matt Groening ইউনূসের একটি ছবি উপহার দেন।
ফাঁস হওয়া নথিতে উল্লেখ আছে ” A while back Isabel and I introduced our very good friend cartoonist Matt Groening to Nobel Peace winner Mohammad Yunus, and next Sunday (October 3rd), Yunus becomes part of the Simpson legend. Now, that is an accomplishment we can be Truly be proud of as being
Worthwhile and Meaningful!
অর্থাৎ ইউনূস ইসাবেলদের পারিবারিক বন্ধু। অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন ইসাবেল আর ঘিসলেন আলাদা এনটিটি, তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই। ঘিসিলেনকে যখন আদালতে ২০ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয় ‘Sex trafficking’ এর জন্য, তখন ইসাবেল সেখানে উপস্থিত হন।
এছাড়া ইউনূস বিল ক্লিনটন এবং হিলারি ক্লিনটনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কানেক্টেড এটা তো পুরো দুনিয়া জানে। ২০১৬ সালের হিলারীর নির্বাচনী প্রচারণায় ইউনুস ৫০ হাজার ডলার থেকে ৪ লক্ষ ডলার ডোনেশন দেন। বিল ক্লিনটনের একাধিক ছবি এপস্টিনের আইল্যান্ডে পাওয়া গেছে। ইউনূসের সাথে ডেমোক্রেটদের কানেকশনের মূল যোগসূত্র হুমা আবেদিন।
হুমা আবেদিন হচ্ছেন হুমা আবেদিন একজন প্রভাবশালী মার্কিন রাজনৈতিক কর্মী ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পরিচিত মুখ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টে ডেপুটি চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করেন। হিলারি ক্লিনটনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে, ক্লিনটন ফাউন্ডেশন এবং প্রেসিডেনশিয়াল ক্যাম্পেইনে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০১৬ এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হুমা হিলারীর ক্যাম্পেইনের ভাইস চেয়ার ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির ভেতরের মহলে তিনি একজন প্রভাবশালী সংগঠক ও স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে পরিচিত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সাবেক কংগ্রেসম্যান অ্যান্থনি ওয়াইনারের সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন, যার রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির কারণে এক সময় আবেদিনও ব্যাপক গণমাধ্যমের আলোচনায় আসেন। ইউনূসের আমেরিকায় গ্রামীণ ব্যাংক সাম্রাজ্যের সবকিছু এদের হাতেই তৈরি। হুমা আবেদিন গত বছর জর্জ সারোসের পুত্র অ্যলেক্স সরোসকে বিয়ে করেন। মনে আছে ইউনুস ক্ষমতায় আসার পর পর অ্যালেক্স সরোস বাংলাদেশ ভ্রমণ করে? সেই অ্যালেক্স সরোসের বর্তমান স্ত্রী হুমা আবেদিন।
এই এপস্টিনের ফাইলে জর্জ সরোসের নাম ৪৫৮ বার পাওয়া গেছে , অ্যালেক্স সরোসের নাম দুইবার এসেছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে । সেখানে অ্যালেক্স সরোসের একটা পার্টির কথা উল্লেখ আছে, সেখানে বলা আছে ‘Went to Alex Soros party. ** has a new boy as well **-‘ । এই পার্টির লোকেশন সম্ভবত এপস্টিনের আইল্যান্ড হওয়ার কথা।
এবার ফিরে আসি ড. ইউনূস ইস্যুতে। ইউনুসের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ইসাবেলার আপন বোন গিসলেন এপস্টিনের গার্লফ্রেন্ড কাম সাপ্লায়ার। ইউনুসের বন্ধু সরোসের পুত্র এপস্টিন আইল্যান্ডের খদ্দের, আবার অ্যালেক্স সরোসের বর্তমান স্ত্রী হুমা আবেদিন যে কিনা হিলারীর খুব ঘনিষ্ঠ। এবং সেই এপস্টিনের ফাইলে ইউনূসের নাম ১৩ বার।
আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস ৩০ মিলিয়ন পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করলেও অনেক নথি এখনো প্রকাশিত সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। কারণ যারা বর্তমানে মার্কিন ডিপ স্টেটের পারপাস সার্ভ করছে তারা বিব্রত হয় এবং স্বার্থহানি ঘটবে এমন কিছুই প্রকাশ করবেনা। তাই ইউনুস এপস্টিন আইল্যান্ডে গিয়েছে কিনা , সেক্স ট্রাফিকিং করেছে কিনা, আন্ডার এজড মেয়েদের সাথে সময় কাটিয়েছে কিনা আপাতত কিছুই জানা যাবেনা। কারণ ইউনুস বর্তমানে মার্কিন এসেট, তাকে রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে তারা। তাই ইউনুস সমন্ধে আপাতত স্পর্শকাতর কিছুই জানা যাবেনা।
ইউনুসের এপস্টিন ফাইলের সাথে সম্পৃক্ততা বুঝতে হলে আপনাকে উপরের ডটগুলো মিলিয়ে একটা উপসংহার দাড় করাতে হবে আর সেই বোঝাপড়া আমি পাঠকদের হাতেই ছেড়ে দিলাম।
রেদওয়ান ইবনে সাইফুল
শিক্ষার্থী ও এক্টিভিস্ট, যুক্তরাজ্য





