এই সময়ে বাংলাদেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় পর্যবসিত হয়েছে। শিশু গুম,নারী ধর্ষণ,সংখ্যালঘুদের প্রতি
নির্মম নির্যাতন,রাজনৈতিক ভিন্নমতের টুঁটি চেপে ধরা ও সংবাদপত্রের
স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব হচ্ছে বাংলাদেশে। খুবই হতাশাজনকভাবে ভেঙে পড়েছে বাংলাদেশের সমাজ ও দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থা। বাড়ছে মানুষের বেকারত্ব। বন্ধ হচ্ছে কল কারখানা। বিদ্যুতবিহীন জনদুর্ভোগে বাড়ছে দ্রব্যমূল্যের দাম আশংকাজনকভাবে।
চরম এই ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশের ভবিষ্যত কী- এমন প্রশ্ন রেখে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ‘একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশন।’
ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড: নুরুন নবী ও সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া স্বাক্ষরিত
বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্র যখন সম্পূর্ণই অরক্ষিত ঠিক সেই সময়ে বিশাল
বহর নিয়ে জাতিসংঘ সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অথচ এই মার্কিন মুলুকের বিভিন্ন মানবাধিকার,শান্তিকামী সংগঠন বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেই যাচ্ছে।
বাংলাদেশে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ২২ মে বিবৃতি দেয় ইউনিসেফ। সংস্থাটির তৎকালীন বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এসব ঘটনায় দায়মুক্তির অবসানের আহ্বান জানান। ঘর, প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি পরিসরে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বানও উঠে আসে সংস্থাটির বক্তব্যে।
এসব ঘটনায় অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারপ্রক্রিয়া, স্থানীয় সুরক্ষা সেবা এবং মানসিক-সামাজিক সহায়তার ঘাটতি দূর করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে ইউনিসেফ। পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্রেও জবাবদিহি বাড়ানোর কথা তুলে ধরা হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে।
কিন্তু বাংলাদেশ কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি। গেল সাত মাসে পনেরো হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজের সংবাদ বের হয়েছে। এর মাঝে তেরো
হাজার শিশু বাড়ি ফিরেছে বলে পুলিশ দাবি করলেও দুই হাজারের
অধিক শিশু এখনও লাপাত্তা রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দখলদার ইউনুস এবং বর্তমান সরকারের চরম গাফিলতির কারণে প্রায় বারো শত শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা জিম্মি হয়ে পড়েছে সরকারি ভাগ-বাটোয়ারাবাদীদের হাতে।
ফাউন্ডেশন তাদের বিবৃতিতে বলে, যারা দেশের আইন প্রণেতা বলে নিজেদের দাবি করছেন, তারাই জড়িয়ে পড়ছেন না না জঘন্য অপরাধে। জামায়াতের একজন এমপি গাজী নজরুল ইসলামের
দ্বিতীয় স্ত্রী বলে কথিত নাবালিকা মরিয়ম বেগম ( ১৯ ) আত্মহত্যা করেছেন। একটি রাষ্ট্র কতটা খাদে পতিত হলে একজন এমপির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠতে পারে !
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নেমে এসেছে নির্মম খড়গ। দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় প্রতিসপ্তাহে সনাতনীদের বাড়িঘর লুট করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন) ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে দেশে সাম্প্রদায়িক হিংসার শিকার হয়েছেন ২৬১ জন মানুষ।
অথচ মহান একাত্তরের চেতনায় সকল ধর্ম বর্ণের মানুষ সমান অধিকারে বেঁচে থাকার কথা ছিল। সামনে দুর্গাপুজাকে কেন্দ্র করে
সনাতনীরা চরম শংকা ও উদ্বেগের মুখোমুখি রয়েছেন।
এ বছরের এপ্রিল মাসে বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশের অর্থনীতির চরম অবনতির কথা জানিয়েছে। দারিদ্রতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়া, ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাট অব্যাহত থাকার তথ্যও দিয়েছে। ৯৫টি শিল্প-কারখানা বন্ধ হওয়ায় ৬১৮৮১ জন শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। বিজিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী চব্বিশের কথিত কোটা আন্দোলনের পর সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়া বাংলাদেশের ৪ শতাধিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা (হিউম্যান রাইটস ওয়াচ)’র তথ্য অনুযায়ী বর্তমান সরকারের ৬ মাসে কারাগারে আওয়ামী লীগের ১০ জন নেতা মারা গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও সেগুলোর বিচার শুরুই হয়নি।আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে , ভিন্নমতের রাজনীতিকদের পর্যায়ক্রমে নিঃশেষ করার সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কারাগার এবং রাস্তা-ঘাটে কিংবা বাসা-বাড়িতে ঢুকে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ কী তবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত
হচ্ছে ! প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়ার কোনো অশুভ চক্রান্ত কি করছে কেউ !
জাতিসংঘে দীর্ঘ বক্তৃতা কোনো কাজে লাগবে না , যদি দেশের
মানুষ শান্তিতে থাকতে না পারে। বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়ে
এই সরকারকে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করার স্বাধীনতা দিতে হবে। একই সাথে মহান একাত্তরের চেতনা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। স্বাধীন মত প্রকাশে মিডিয়ার স্বাধীনতা ও মিথ্যা মামলায় আটক বরেণ্য সাংবাদিক,বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক সহ প্রত্যন্ত এলাকার সকল রাজনৈতিক নেতা কর্মীকে মুক্তি দিতে হবে। দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরতে হবে।
মনে রাখতে হবে এই দেশ ৩০ লাখ শহীদ ও চার লাখ নারীর সম্ভ্রমের
উত্তরাধিকার। এখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কোনো
সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সকল ধর্ম বর্ণ গোত্রের মানুষের নিরাপত্তা প্রদানে সরকার ব্যর্থ হলে- এর দায় তাদেরকেই নিতে হবে।