Brick Lane News

আদালতের রায়ের পর ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী নতুন ১০ শতাংশ শুল্করোপ

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:২৫ পিএম

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে ভিন্ন ভিন্ন হারে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার দেওয়া এক রায়ে আদালত বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন।

আদালতের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী কর ও শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত, প্রেসিডেন্টের নয়। শুল্ক আরোপের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প পাল্টা ঘোষণা দেন। তিনি ‘ধারা ১২২’–এর আওতায় বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, ওভাল অফিসে বসেই আদেশে স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং এটি দ্রুত কার্যকর হবে। নতুন শুল্ক মঙ্গলবার থেকে চালু হবে।

ধারা ১২২ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করতে পারেন। এ সময়ের মধ্যে কংগ্রেসকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হয়। নতুন আদেশে কিছু খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ, সার, কমলা ও গরুর মাংসের মতো কৃষিপণ্য, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস এবং নির্দিষ্ট কিছু গাড়িকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে ছাড়ের তালিকা অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট।

উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো–কানাডা চুক্তি–এর আওতায় কানাডা ও মেক্সিকোর বেশিরভাগ পণ্য শুল্কমুক্ত থাকবে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি থাকা দেশগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক প্রযোজ্য হবে। তারা চুক্তিতে নির্ধারিত হারের পরিবর্তে ধারা ১২২ অনুযায়ী শুল্ক দেবে।

আদালতের এই রায় ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে মামলা করা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় আদায় করা বিপুল অঙ্কের শুল্ক ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

তবে এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, আদালতের রায় মানেই শুল্ক থেকে আদায় করা অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত যাবে না। বিষয়টি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারে।

রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসসহ ছয়জন বিচারক ট্রাম্পের পদক্ষেপের বিপক্ষে মত দেন। তাদের মধ্যে ট্রাম্পের মনোনীত বিচারক অ্যামি কনি ব্যারেট ও নেইল গোরসাচও ছিলেন। তবে ক্লারেন্স থমাস, ব্রেট কাভানাহ ও স্যামুয়েল আলিতো সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের বিরোধিতা করেন।

রায়ের পর শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। প্রধান সূচক প্রায় শূন্য দশমিক সাত শতাংশ বেড়ে দিন শেষ করে। তবে শুল্ক ফেরত ও নতুন আদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

Related Posts

সর্বশেষ খবর

অন্যান্য ক্যাটাগরি