Brick Lane News

মাদারীপুরে শিশু-কিশোরদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ২০টি ককটেল ও হাতবোমার বিস্ফোরণ

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:২৮ পিএম

মাদারীপুর শহরে কিশোরদের দুই পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আতঙ্ক সৃষ্টি করতে উভয় পক্ষ অন্তত ২০টি ককটেল ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে দুই পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের আমিরাবাদ ইউআই স্কুলের পেছনে বলরাম মন্দির এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে গত শনিবার রাতেও শহরের হরিকুমারিয়া এলাকায় একই পক্ষগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতা কামরুল ইসলাম ওরফে তুষু খন্দকার এবং জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কে এম তোফাজ্জল হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। রোববার পূর্ব আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা ও পরিবহনশ্রমিক কাওসার হোসেন ও তার স্ত্রীকে আটকে মারধরের ঘটনার জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ডিসি ব্রিজ, কলেজ রোড ও পূর্ব আমিরাবাদ এলাকায় শিশু-কিশোর ও যুবকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। একপর্যায়ে বলরাম মন্দির এলাকায় জড়ো হয়ে উভয় পক্ষ ককটেল ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এলাকায় বিস্ফোরণ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে একই রাতে সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের নয়ারচর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষ হয়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে তিনটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিক ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও র‍্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সংঘর্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। সোমবার রাতের দুই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে আটক করা যায়নি।

Related Posts

দুদিনের ব্যবধানে বাবা-মায়ের মৃত্যু, হাতকড়া পরে আবার জানাজায় দুই ভাই

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় দুই দিনের ব্যবধানে বাবা-মাকে হারিয়েছেন কারাগারে থাকা দুই সহোদর ফরিদুল আলম ও মোহাম্মদ ইসমাইল। মায়ের মৃত্যুর পর...

Read more

সর্বশেষ খবর

অন্যান্য ক্যাটাগরি