জার্মানির মিউনিখে চলমান নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিয়ে বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তিনি দাবি করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বা ‘ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ গড়ে উঠেছিল, তা এখন ভেঙে পড়ার মুখে। বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
রুবিও বলেন, “আমরা যে পুরোনো পৃথিবীতে বড় হয়েছি, সেটি এখন অতীত। আমরা ভূ-রাজনীতির এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছি, যেখানে পুরোনো নিয়মগুলো আর কাজ করছে না।”
প্রথাগত কাঠামো থেকে সরে আসার বার্তা
বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এখন এমন একটি নীতিতে বিশ্বাসী, যা প্রচলিত আন্তর্জাতিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে বাস্তব ফলাফল নিশ্চিত করতে সক্ষম।
মিউনিখ সিকিউরিটি রিপোর্টেও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে ‘ধ্বংসের রাজনীতি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যেখানে সংস্কারের বদলে পুরোনো ব্যবস্থার বিলোপকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
রুবিওর বক্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং ন্যাটোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য আটলান্টিকের দুই পাড়ের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
রুবিও মনে করেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের মতো বড় সংকটে জাতিসংঘ কার্যকর সমাধান দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে সংস্থাটির প্রাসঙ্গিকতা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে শুধু তাদের সঙ্গেই অংশীদারিত্ব গড়বে, যারা নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে বাস্তবসম্মত অবস্থান নেবে। তার মতে, বিশ্ব আর ১৯৪৫ সালের নীতিতে পরিচালিত হবে না; প্রতিটি রাষ্ট্রকেই নিজেদের অবস্থান নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।





