Brick Lane News

পানিতে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা পর উদ্ধার শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মরদেহ

পানিতে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা পর উদ্ধার শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মরদেহ

পানিতে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী শান্ত বণিকের (২২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিন বন্ধু মিলে জলাশয়ে গোসলে নামলে শান্ত বণিক পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন।

তবে অভিযোগ উঠেছে, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষে সন্ধ্যা ৬টার পর পানিতে নেমে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব নয়। এই নিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। ফলে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

‎শুক্রবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিছানাকান্দি পর্যটন এলাকার একটি জলাশয় থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।

শান্ত বণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী বাজার এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৪টায় শান্ত নিখোঁজ হলেও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। পৌঁছানোর পর তারা জানায়, সন্ধ্যা ৬টার পর নিয়ম অনুযায়ী পানিতে নেমে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব নয়। এই নিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিলেট ফায়ার সার্ভিসের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ডুবুরি দল পানিতে নেমে উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং রাত সাড়ে ৯টায় মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দমকলকর্মী জনি আচার্য বলেন, ‘সন্ধ্যার পর পানিতে না নামার বিষয়টা আমাদের ডিপার্টমেন্টেরই একটি নিয়ম। রাতের বেলা আমরা কাজ করি না। আমাদের দেশের পানি স্বচ্ছ না হওয়ায় এমন নিয়ম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু অনুমানের ওপর ভিত্তি করে একটা জায়গায় নেমে খোঁজা শুরু করি। তারপর লাশটা উদ্ধার করে নিয়ে আসি। রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে লাইটিং না থাকায় আমাদের ডুবুরির কাজ করার নিয়ম নেই।’

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। তবে সিলেট থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় তাদের আপাতত এখানে আসতে বারণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেই মরদেহ বাড়ি পাঠানোর যাবতীয় ব্যবস্থা করা হবে।

‎প্রক্টর আরও জানান, স্থানীয় হাসপাতালে প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট সম্পন্ন করা হবে। ডেথ সার্টিফিকেট পাওয়ার পর মরদেহ প্রথমে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে নেওয়া হবে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ে পাঠানো হবে।