Skip to main content

Brick Lane News

নিয়োগপত্র না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ২,৫০০ হবু শিক্ষক

নিয়োগপত্র না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ২,৫০০ হবু শিক্ষক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় দেশজুড়ে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশনের পর নিয়োগের তালিকা থেকে বাদ পড়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রার্থীদের একটি প্ল্যাটফর্মের দাবি অনুযায়ী, নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। তবে অন্য একটি হিসাব বলছে, এই সংখ্যা ২ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মূলত চারটি নির্দিষ্ট কারণে প্রার্থীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদন, ডোপ টেস্টে অযোগ্যতা, স্বাস্থ্য সনদের অভাব এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে গরমিল। এর মধ্যে পুলিশি যাচাইয়ে নেতিবাচক রিপোর্ট পাওয়ার হারই সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় খুলনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় প্রার্থীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন জেলায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হলে কয়েকটি জেলার প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, চূড়ান্ত ফলাফলে নাম থাকা সত্ত্বেও নিয়োগপত্রের তালিকায় তাদের নাম নেই।

প্রার্থীদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগপত্র বঞ্চিত হওয়ার তালিকায় রয়েছেন চাঁদপুরে ২৭, মুন্সীগঞ্জে ৩, শরীয়তপুরে ৬, সাতক্ষীরায় ২, ঝালকাঠিতে ১২, লক্ষ্মীপুরে ২, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭, পাবনায় ৩৫, রাজবাড়ীতে ১৫, ফরিদপুরে ১২, বগুড়ায় ৪৮, সুনামগঞ্জে ১২০, কুষ্টিয়ায় ১৬ এবং মানিকগঞ্জে ২২ জন। সব মিলিয়ে কেবল এই জেলাগুলো থেকেই ৩৫১ জন নিয়োগপত্র পাননি। খুলনায় সুপারিশ পাওয়া ২৭৫ জনের মধ্যে কাগজপত্র জমা দেওয়া ২৬৫ জনের মধ্যে ১৯৬ জন নিয়োগপত্র পেলেও ৬৯ জন বঞ্চিত হয়েছেন। এছাড়াও মৌলভীবাজারে ৩৪৭ জনের মধ্যে ৬৭ জন এবং যশোরে ২৯০ জনের মধ্যে ১০৬ জন নিয়োগপত্র পাননি বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব জেলার তথ্য যোগ করলে সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫১। সুনামগঞ্জে বাদ পড়েছেন ১২০ জন, মৌলভীবাজারে ৬৭ জন এবং নাটোরে প্রতিবন্ধীসহ ৩৪ জন চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র পাননি। সুনামগঞ্জে ৬১৭ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য সুপারিশ পাঠানো হলেও সর্বশেষ যাচাইয়ে ১২০ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ভেরিফিকেশনের নামে বাদ পড়া প্রার্থীদের নথি পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের প্ল্যাটফর্ম। তাদের দাবি, কোনো দপ্তর বা কর্মকর্তার ভুল, প্রশাসনিক ত্রুটি কিংবা গাফিলতির কারণে কেউ বাদ পড়লে তা সংশোধন করতে হবে। সেই সঙ্গে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের বক্তব্য, অযোগ্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি তাদের নেই, তবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় পুনরায় তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য কারণ নেই, তাদের ক্ষেত্রে পুনর্যাচাই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ চান।

তবে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ভিন্ন বার্তা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত পদ্ধতি। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তী সময়ে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে পর্যায়ক্রমে তাদের নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপট ছিল গত বছরের ৯ জানুয়ারি ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষা। ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনের মধ্য থেকে মৌখিক পরীক্ষার পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়। সেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের ১ অক্টোবর যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে কেন অনেকের নাম নিয়োগপত্র তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং পুলিশি প্রতিবেদনে কী ধরনের আপত্তি তোলা হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। নিয়োগপ্রত্যাশীরা এখন ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং পুরো পরিস্থিতির স্পষ্ট ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন।