বাংলাদেশের নতুন সরকার বিদ্যুৎ খাতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। দেশি ও বিদেশি কম্পানির কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া জমা থাকায় গ্রীষ্ম ও সেচের মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট, যা গরমে ১৮ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ ধারণা করছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন,৪৫ হাজার কোটি টাকা বিদ্যুতে বকেয়া, দেউলিয়ার অবস্থা এখন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যাস, কয়লা ও তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রাখতে হবে এবং অর্থ সংস্থান করে ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ করতে হবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশি ও বিদেশি কোম্পানির কাছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। তেলভিত্তিক উৎপাদনের জন্য বেসরকারি কোম্পানিগুলো সাত-আট মাস ধরে বিল পায়নি।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ২৮,৯১৯ মেগাওয়াট। তেলভিত্তিক কেন্দ্র মোট উৎপাদনের প্রায় ২৩ শতাংশের জন্য দায়ী। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ক্ষমতা প্রায় ৪,০০০ মেগাওয়াট। বকেয়া দ্রুত না মিটলে তেল আমদানি ও চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন কঠিন হয়ে যাবে।
বিদ্যুৎ খাতে সমস্যা সমাধানে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এতে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়, লোডশেডিং কমানো এবং কয়লা-তেল ব্যবহারের সঠিক পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। নতুন সরকার আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং গরমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে।





