মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে হামলার ঘটনায় জসিম উদ্দিন (৩০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ; থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চর আবদুল্লাহ গ্রামে নিজ বাড়ির পাশেই জসিম উদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত জসিম উদ্দিন নায়েব চর আবদুল্লাহ গ্রামের বাসিন্দা ও মাফিক নায়েবের ছেলে। তিনি এলাকায় একটি নারী ও একটি পুরুষ মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, বিকেল তিনটার দিকে জসিম বাড়ির পাশের জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের শতাধিক সমর্থক তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ির ভেতরে তাঁর বাবা ও ভাইদের মারধর করা হয়। পরে জমিতে গিয়ে জসিমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনায় তাঁর বাবা মাফিক নায়েব ও ভাই মোখলেস নায়েবও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার সমর্থকেরা এ হামলায় জড়িত। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে ঘটনা ঘটেছে; নির্বাচনী উত্তেজনাও এতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে জসিমের মৃত্যুর পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্বজনদের দাবি, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।





