ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন নির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকাল। দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তার মন্ত্রণালয়ের কাজের হিসাব দিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন, গত দেড় বছরের বিভিন্ন সংস্কার ও কার্যক্রম পুরোপুরি টিমওয়ার্কের ফল, ব্যক্তিগত কৃতিত্বের নয়। তিনি বলেন, ভাই, আমি কিছু করিনি; করেছে আইন মন্ত্রণালয়।
আসিফ নজরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে:
১) আইনি সংস্কার: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও সচিবালয় অধ্যাদেশ, বাণিজ্যিক আদালত, মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন সংশোধন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ এবং বিবাহ ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালায় যুগোপযোগী পরিবর্তন।
২) প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন: বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠন, তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন, আদালতের কর্মচারী নিয়োগের স্বচ্ছ ব্যবস্থা, প্রসিকিউশন মনিটরিং সেল, ই-ফ্যামিলি কোর্ট, অনলাইন বেইলবন্ড, আইন মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল প্রক্রিয়া, জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, আদালতের নামকরণ ও নতুন আদালত সৃষ্টি।
৩) হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার: বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মামলার হয়রানি দূরীকরণের জন্য জেলা পর্যায়ে কমিটি ও আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে প্রায় ২৪,০০০ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
৪) গণহত্যার বিচার সহায়তা: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারক ও প্রসিকিউটর নিয়োগ, প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন, বিচার কার্যক্রম তদারকি।
৫) দৈনন্দিন কার্যক্রম: গত দুই বছরে ২,২৮১টি নথি নিষ্পত্তি, ৫৭৮টি বিষয়ে আইনি মতামত প্রদান, ১৫টি অংশীজন মতবিনিময় সভা আয়োজন, ১২৭টি অধ্যাদেশ ও একটি আদেশ সংকলন প্রকাশ, এবং ৫,৫০০-এর বেশি আইন কর্মকর্তা নিয়োগসহ বিচার বিভাগে ব্যাপক ক্ষমতা সম্প্রসারণ।
আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, এই সব কাজ এককভাবে নয়, আইন মন্ত্রণালয়ের পুরো টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল।





