জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘গ্রে’স অ্যানাটমি’ ও ‘ইউফোরিয়া’ খ্যাত অভিনেতা এরিক ডেন আর নেই। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ৫৩ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
অভিনেতার প্রতিনিধির দেওয়া বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে অ্যামায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস) নামক স্নায়ুরোগে ভুগছিলেন তিনি। শেষ সময়ে তার পাশে ছিলেন স্ত্রী রেবেকা গেহার্ট, দুই মেয়ে বিলি ও জর্জিয়া এবং ঘনিষ্ঠজনেরা।
২০২৫ সালে প্রথমবার নিজের অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে আনেন এরিক ডেন। রোগ নির্ণয়ের পর থেকেই তিনি এএলএস সচেতনতা ও গবেষণার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, তার লড়াই অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে।
‘গ্রে’স অ্যানাটমি’র স্রষ্টা শোন্ডা রাইমস তাকে অত্যন্ত মেধাবী অভিনেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার অভিনীত ড. মার্ক স্লোন চরিত্রটি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। সহকর্মী কিম রেভারও তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন।
নব্বইয়ের দশকে ‘দ্য ওয়ান্ডার ইয়ার্স’ ও ‘রোজান’ সিরিজে ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার শুরু হয়। ২০০৬ সালে ‘গ্রে’স অ্যানাটমি’তে ড. মার্ক স্লোন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। ‘ম্যাকস্টিমি’ নামে পরিচিত এই চরিত্র তাকে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি এনে দেয়।
পরবর্তীতে তিনি ‘মার্লে অ্যান্ড মি’, ‘বার্লেস্ক’ ও ‘এক্স-মেন: দ্য লাস্ট স্ট্যান্ড’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০১৯ সালে ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজে ক্যাল জেকবস চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও আলোচিত হন। চলতি বসন্তে সিরিজটির শেষ মৌসুমে তার উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল।
অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন এরিক ডেন। ‘ব্রিলিয়ান্ট মাইন্ডস’ সিরিজে এএলএস আক্রান্ত এক দমকলকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এছাড়া ‘আই এম এএলএস’ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে গবেষণা তহবিল ও আইনি সহায়তার জন্য কাজ করেছেন।
নিজের অসুস্থতা সত্ত্বেও পরিবার ও সমাজসেবামূলক কাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি। তার মৃত্যুতে হলিউড একজন প্রতিভাবান ও লড়াকু শিল্পীকে হারাল।
সূত্র: সিএনএন।





