Brick Lane News

সচেতনতায় টিকবে গণতন্ত্র, আত্মতুষ্টিতে নয়

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:২৫ ্পিএম
সচেতনতায় টিকবে গণতন্ত্র, আত্মতুষ্টিতে নয়

২০২৬ সালের এই নির্বাচনে জামায়াতের পরাজয় হয়নি। আমরা যারা মনে মনে বিএনপির বিজয়কে জামায়াতের পরাজয় ভেবে তুষ্ট হচ্ছি, তারা আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছি।

এই নির্বাচনে প্রকৃতপক্ষে জামায়াতই কৌশলগত বিজয় অর্জন করেছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আজ সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বসবে এটাই তাদের বড় সাফল্য। সামনের দিনে যদি বিএনপি সরকার পরিচালনায় ব্যর্থ হয়, তবে জামায়াত সেই ব্যর্থতাকে পুঁজি করে মানুষের কাছে আবারও সুযোগ চাইবে। তখন তারা শুধু আবেগ নয়, সরকারের দুর্বলতাকেও হাতিয়ার করবে। গত নির্বাচনে তারা বড় দুই দলকে ব‍্যর্থ দাবী করে সুযোগ চেয়েছে। জনগনকে আগামীতেও তাই বলবে।

আওয়ামী লীগ ও নৌকাবিহীন ড. ইউনূসের অধীনে ২০২৬ সালের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে দুই বড় দলের মধ্যে যে দল বেশি আসনে বিজয়ী হবে, তারাই সরকার গঠন করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের পবিত্র সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে সেই দল, যাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে।

যে দল মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করে না এবং ১৯৭১ সালে সংঘটিত অপরাধের জন্য কখনও স্পষ্টভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি, তাদের সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে মেনে নেওয়া স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী মানুষের জন্য কঠিন।

বাস্তবতা হলো ড. ইউনূসের সূক্ষ্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন দেশকে এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। সে বাস্তবতায় আমরা তুষ্ট হয়ে আবারো যদি গড্ডালিকায় গা ভাসাই তবে বাংলাদেশ হারাতে পারে তার অসাম্প্রদায়িক চরিত্র।

আজকের এই পরাজয় কোনো চূড়ান্ত সমাপ্তি নয় এটি কেবল একটি অধ্যায়। জামায়াত যে এখন ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে তা যদি রাজনীতিবিদদের অনুধাবনে না আসে তবে আগামীতে দেশের ক্ষমতা জামাতের নেতৃত্বে চলে যাবে না তা বলার সুযোগ নেই।

ইতিহাস আমাদের শেখায়, সংগঠিত মতাদর্শ একদিনে পরাজিত হয় না। তারা অপেক্ষা করে, নিজেদের নতুন রূপে সাজায়, সুযোগের সদ্ব্যবহার করে। তাই আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

আমাদের সতর্ক থাকতে হবে কারণ বিভ্রান্তি, অপপ্রচার ও আবেগকে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তারা তা জানে।

গণতন্ত্র রক্ষা মানে শুধু ভোটের দিনে জয়ী হওয়া নয়; বরং সচেতনতা বজায় রাখা, ইতিহাসকে বিকৃত হতে না দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে সত্য জানানো।

আজ আমরা উদযাপন করব, কিন্তু ভুলব না, সতর্কতা ছাড়া কোনো অর্জন টেকে না।

আমাদের শক্তি হবে ঐক্য, যুক্তিবোধ ও নৈতিক দৃঢ়তা। প্রতিহত করতে হলে ঘৃণা নয়, সচেতন সংগঠনই হবে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও সামন্তবাদী চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীনতার পক্ষের সব রাজনৈতিক শক্তিকে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তা না হলে ধর্মীয় আবেগের অপব্যবহার করে অসাম্প্রদায়িক এই দেশকে উগ্র ধর্মান্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তরের ঝুঁকি থেকেই যাবে।

তওহীদ ফিতরাত হোসেন

Related Posts

সর্বশেষ খবর

অন্যান্য ক্যাটাগরি