ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে চাঁদাবাজি বেড়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চাঁদাবাজির মাত্রা ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
মতিঝিলের ডিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চেম্বার সভাপতি বলেন, চাঁদাবাজি করছে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন, পুলিশ ও রাজস্ব কর্মকর্তাসহ অনেকেই। তিনি জানান, ব্যবসায়ীরা অফিস, রাস্তা এবং কারখানায় চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। যদি চাঁদাবাজি বন্ধ না হয়, ব্যবসায়ীরা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।
ডিসিসিআই সভাপতি সরকারের কাছে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন। তিনি চারটি অগ্রাধিকারের বিষয় উল্লেখ করেন। প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা। দ্বিতীয়ত, সরকারি খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, যারা ঋণ খেলাপি নন, তাদের পুনর্বহাল করতে চলতি মূলধনের সহায়তা দেওয়া এবং ঋণের সুদহার যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে আনা। চতুর্থত, অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয় গড়ে তুলে অর্থনীতি স্থিতিশীল করা।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পরও দেশে আওয়ামী সরকারের সময়ের মতোই দুর্নীতি হয়েছে। পুলিশ, প্রশাসন ও ইনকাম ট্যাক্স অফিসে দুর্নীতি এখনো বিরাজ করছে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ না হলে অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ী মহল ও জনগণ উভয়ই চাঁদাবাজি বন্ধ চাইছে। মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের সময়ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে গোলাগুলি হয়েছে। তিনি পুঁজিবাজারে ভালো মানের কোম্পানি তালিকাভুক্তি এবং গ্রিন চ্যানেল তৈরি করার পরামর্শ দেন যাতে সরকারি লাভজনক কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করা যায়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া শুল্ক চুক্তির ব্যবসাসংক্রান্ত ধারাগুলো প্রকাশ করার দাবি জানান।





