নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজপথের মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যকার জোটে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী মাঠে জামায়াতের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা। এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত জোটের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ
এনসিপি নেতাদের দাবি, জোটের শরিক হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় অনেক আসনেই তারা ন্যূনতম আর্থিক বরাদ্দ পাননি। এমনকি মাঠ পর্যায়ে জামায়াতের বিশাল কর্মী বাহিনীকে এনসিপির প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আসন ভাগাভাগি ও সমন্বয়হীনতা
জোটের সমঝোতা অনুযায়ী এনসিপিকে ৩০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে অনেক আসনেই জামায়াত তাদের প্রার্থী বহাল রাখে। বিশেষ করে নরসিংদী-২ ও চট্টগ্রাম-৮-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে জামায়াত প্রার্থী প্রত্যাহার না করায় ভোটের লড়াইয়ে এনসিপি প্রার্থীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এই দুই আসনে জামায়াতের অনড় অবস্থান জোটের সমন্বয়হীনতাকে জনসমক্ষে স্পষ্ট করে তুলেছে।
তদন্তের ঘোষণা ও ক্ষোভ
এনসিপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন:
“জোটের শরিকদের পক্ষ থেকে অসহযোগিতার বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নিচ্ছি। কেন এবং কী কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা খতিয়ে দেখা হবে।”
এদিকে নির্বাচনে পরাজিত এনসিপির কয়েকজন প্রার্থী সরাসরি স্থানীয় জামায়াত নেতাদের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন। তাদের মতে, জামায়াতের স্থানীয় ভোট ব্যাংক এনসিপির প্রতীকে না এসে অন্যদিকে ডাইভার্ট হয়েছে অথবা ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হয়েছেন।
ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
নির্বাচন-পরবর্তী এই বৈরী পরিস্থিতিতে জামায়াত-এনসিপি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। জোটের প্রধান দুই শরিকের মধ্যে এই দূরত্ব কতটুকু ঘুচবে না কি নতুন কোনো মেরুকরণ ঘটবে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।





