জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দুই দিন পর রাজধানীর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একদল ব্যক্তি জাতীয় পতাকা উড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি সালাম জানানোর দাবি করেছেন স্থানীয়রা। ইতিমধ্যেই যার ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার দুপুরের পর সাত-আটজনের একটি দল গুলিস্তানের দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভবনের সামনে আসে। প্রায় দেড় বছর ধরে ভবনটিতে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ লেখা একটি ব্যানার ঝুলতে দেখা যাচ্ছে।
ঘটনাস্থলের পাশের এক ফুটপাত ব্যবসায়ী জানান, কয়েকজন ব্যক্তি জাতীয় পতাকা নিয়ে এসে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের আদর্শবান নেতাদের উদ্দেশে সালাম জানান। পরে তারা একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে পতাকাটি বেঁধে রেখে চলে যান।
তবে পরে সেখানে গিয়ে আর জাতীয় পতাকা দেখা যায়নি।
ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী সলিমউল্লাহ ব্যাপারী বলেন, ঘটনাটি দেখে তিনি কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলটির সদস্যরা বিভিন্ন পেশার মানুষ; রিকশাচালক, হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
তিনি দাবি করেন, তাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তার ভাষায়, ওই ব্যক্তিরা বলেছেন “এখন তো আর রাজাকাররা নাই, তারাই এই অফিসে আসলে বাধা দিত। এখন তারা হারছে, তাই আমরা পতাকা উড়াইতে আসছি।”
তবে আশপাশের আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তারা ঘটনাটি সরাসরি দেখেননি, কেবল শুনেছেন। জাতীয় পতাকাটি পরে সেখানে না থাকার বিষয়ে তাদের ধারণা, কেউ খুলে নিয়ে যেতে পারে।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে অবস্থিত দলটির ১০ তলা কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। এরপর ভবনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।
পরবর্তীতে ভবঘুরেদের একটি দল ভবনটি দখলে নেয়। পরে ‘ছাত্র’ পরিচয়ধারী আরেকটি পক্ষ ভবনটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সেখানে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ স্থাপনের ঘোষণা দেয়। তবে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ’ রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়াও রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় এবং ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির কার্যালয়েও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ভবন এখনও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
গত বছর মে মাসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলে দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি।
সরকার পতনের পর বিভিন্ন সময়ে দলটির নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ও কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। সর্বশেষ গত বছরের ১৩ নভেম্বর অনলাইনে ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবারও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় হকার ও ব্যবসায়ীরা জানান, নির্বাচন ও গণভোটের আগে থেকেই ভবনটিতে ভবঘুরেদের উপস্থিতি কমে যায়। ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নাম ব্যবহারকারী ছাত্রদেরও সম্প্রতি সেখানে দেখা যায়নি।





